ফোরকান উদ্দিন রোমান
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘাটুরা মেডিকেল সহ প্রায় অনেক হাসপাতালগুলোর সামনে অবস্থান করা কিছু অ্যাম্বুলেন্স চালকের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং বাইরের অ্যাম্বুলেন্স আসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত বা প্রচলিত ভাড়া যেখানে প্রায় ৫ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে, সেখানে রোগীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া দাবি করা হচ্ছে। জরুরি অবস্থায় রোগী নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া কিংবা অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রয়োজন হলে স্বজনরা বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিতে রাজি হচ্ছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের সামনে অবস্থান করা কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সের চালক নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে রোগী পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স রোগী নিতে এলে তাকে বাধা দেওয়া বা নিরুৎসাহিত করার অভিযোগও রয়েছে। ফলে রোগী ও স্বজনদের হাতে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তারা অনেকটা জিম্মি পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছেন বলে অভিযোগ।
রোগীর স্বজনদের ভাষ্য, একজন মানুষ যখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, তখন তার পরিবারের সদস্যদের মূল চিন্তা থাকে রোগীর চিকিৎসা ও দ্রুত স্থানান্তর। সেই পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে দর-কষাকষি কিংবা সিন্ডিকেটের কারণে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হলে পরিবারগুলো আরও বিপাকে পড়ে।
এদিকে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের একটি অংশের দাবি, রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে জ্বালানি, চালকের পারিশ্রমিক, দূরত্ব ও অন্যান্য খরচ বিবেচনা করেই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। তবে নির্দিষ্ট ভাড়ার বিষয়ে স্বচ্ছতা এবং হাসপাতালের সামনে বাইরের অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনরা অভিযোগগুলোর তদন্ত করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, হাসপাতালের সামনে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ থাকলে তা বন্ধ করা এবং জরুরি রোগী পরিবহনে প্রতিযোগিতামূলক ও স্বাভাবিক সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।





















