রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক রোমাঞ্চকর পরিবেশের সাক্ষী হয়ে রইল তরুণ ও উদীয়মান কমব্যাট ফাইটাররা। অত্যন্ত উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত আমেজে সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে অপেশাদার মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতা ‘ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি প্রেজেন্টস জুলকান বিটডাউন ০২’। বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির সর্বাধুনিক কমব্যাট ভেন্যু ‘জুলকান ইনডোর অ্যারেনা’র দোতলার মূল রিংয়ে শুক্রবার দিনভর চলে এই টানটান উত্তেজনার ট্যাকটিক্যাল লড়াই। মূলত দেশের অপেশাদার বা অ্যামেচার ফাইটারদের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা প্রদান, শারীরিক ও কৌশলগত গ্রুমিং এবং ভবিষ্যতে তাদের পেশাদার (প্রো) লেভেলে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েই এই বিশেষ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়।
দিনব্যাপী আয়োজিত এই ইভেন্টে মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ), বক্সিং এবং কিকবক্সিং—এই তিন ভিন্ন ডিসিপ্লিনে ২০টিরও বেশি রোমাঞ্চকর বাউট অনুষ্ঠিত হয়। ৩ মিনিট করে মোট ৩ রাউন্ডের প্রতিটি লড়াইয়ে ফাইটারদের অসাধারণ টেকনিক্যাল দক্ষতা এবং জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের মাতিয়ে রাখে। পুরো টুর্নামেন্টের মূল আকর্ষণ ছিল ‘সুপার ৪ অ্যামেচার চ্যাম্পিয়নশিপ’। এই বিশেষ প্রতিযোগিতায় সেমি-ফাইনালের বিজয়ী দুই ফাইটার একই দিনে মূল ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ছিনিয়ে নেন বহুল কাঙ্ক্ষিত জুলকান বিটডাউন চ্যাম্পিয়নশিপ বেল্ট। মোট ৮টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে এই মর্যাদাপূর্ণ বেল্ট ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া একক বাউটের বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আকর্ষণীয় মেডেল। পুরুষ ফাইটারদের পাশাপাশি নারী কিকবক্সিংয়ের ৫০ ও ৬৫ কেজি ক্যাটাগরির গতিশীল লড়াইগুলো দর্শকদের মাঝে বাড়তি উদ্দীপনা ও উৎসাহ জোগায়।
টুর্নামেন্টের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে যুক্ত ছিল ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। এই ধরনের হাই-ইমপ্যাক্ট স্পোর্টসে ফাইটারদের শতভাগ চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অফিসিয়াল হেলথকেয়ার পার্টনার হিসেবে সেবা প্রদান করে ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারের প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। রিং সাইডে মেডিকেল দলের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি ফাইটারদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লড়াই করার সুযোগ করে দেয়। পুরো আয়োজনে অফিসিয়াল এমসি ওয়াহিদার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা টুর্নামেন্টটিতে একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের আবহ তৈরি করে।
উল্লেখ্য যে, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির ‘জুলকান ইনডোর অ্যারেনা’ একটি বিশেষায়িত ভেন্যু, যা পেশাদার বক্সিং রিং, আন্তর্জাতিক মানের ফুল-সাইজ এমএমএ কেজ (অক্টাগন), গ্র্যাপলিং ও রেসলিং ম্যাট এবং আধুনিক ফিটনেস ইকুইপমেন্টে সজ্জিত। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির হেড অব অপারেশনস মাসুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘প্রফেশনাল লেভেলে দক্ষ ফাইটার পেতে হলে অ্যামেচার লেভেলের ফাইটারদের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সেই লক্ষ্য থেকেই জুলকান বিটডাউনের আবির্ভাব। ইনশাআল্লাহ, এই বিটডাউনের মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যতে এমন প্রফেশনাল ফাইটার তৈরি করতে পারব, যারা বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্বমঞ্চে গর্বের সাথে প্রতিনিধিত্ব করবে।’











