জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পর, গত বুধবার (৫ আগস্ট) ভারতের নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। উক্ত সম্মেলনে দেওয়া তার বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ সরকার যদি তার জীবনের ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পূর্ণ নিশ্চয়তা প্রদান করে, তবে তিনি তার দুই বছরের দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনের ইতি টেনে দ্রুত স্বদেশে ফিরতে আগ্রহী। এমনকি তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলাসহ যাবতীয় আইনি অভিযোগের মুখোমুখি হতে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার পেতে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেছেন।

আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান পুনরায় তার এই অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে দাবি করেন যে, তিনি কোনো ‘অন্যায় কাজ করেননি’। তাই আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের অবস্থান প্রমাণ করতেই তিনি দেশে ফিরে আসতে চান এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে তিনি অত্যন্ত আনন্দের সাথে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করবেন।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এই অধিনায়ক বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলছেন। টেলিফোনে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব স্পষ্ট করে বলেন, তিনি এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেননি। দেশে ফেরার পর একটি সম্মানজনক বিদায়ী সিরিজ খেলার পাশাপাশি ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য এবং আকাঙ্ক্ষা।

উল্লেখ্য যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন সাকিব আল হাসান। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং এরপর আর দেশে ফেরার সুযোগ পাননি। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি আমাকে এই নিশ্চয়তা দেয় যে আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, তবে আমি আনন্দের সাথে দেশে ফিরব এবং আদালতের বিচারসহ যা যা প্রয়োজন, সবকিছুর মুখোমুখি হব।’ তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, ‘আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।’

সাকিব জানিয়েছেন, তিনি ‘যত দ্রুত সম্ভব’ দেশে ফিরতে ইচ্ছুক। তবে তা যদি এককভাবে সম্ভব না হয়, তবে তিনি ‘শেখ হাসিনার সঙ্গেই’ দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ক্যাপ্টেন যা বলেন, আমরা সেটাই অনুসরণ করি। আমার মনে হয়, তারাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন এবং আমরা তাদের দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করব।’

গত বুধবার দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর বাংলাদেশে সাকিবের শূন্য বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে তিনি কেবল “শান্তি এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নতির কথা” আলোচনা করেছেন এবং সেই বক্তব্যের জন্য তার মনে কোনো অনুশোচনা নেই।

সাকিব আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি তার আইনজীবীর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ পুলিশ প্রশাসনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি তার ভাষায় ‘বানোয়াট’ মামলাগুলো প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিলেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক উত্তর পাননি। এছাড়া দেশে ফেরার বিষয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছেন সাকিব। রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।