সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি অনলাইন কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার পর থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তিনি আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে আগ্রহী। তবে তার এই প্রত্যাশায় জল ঢেলে দিয়েছেন বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, সাকিবের দেশে ফিরে পুনরায় জাতীয় দলের হয়ে খেলার আর কোনো সুযোগ নেই।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) ক্রীড়া বিষয়ক ওয়েবসাইট 'ক্রিকবাজ'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তার এই কঠোর অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, "সাকিবের দেশে ফিরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার আর কোনো পথ খোলা নেই।" তাঁর মতে, সাকিবের বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয়ই এখন তার দেশে ফেরার পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমিনুল হক আরও উল্লেখ করেন, "একজন ক্রিকেটার হিসেবে তিনি যে অনন্য উচ্চতায় ছিলেন, সেখান থেকে সরে এসে যখন তিনি রাজনৈতিক পরিচয় বেছে নিলেন, তখন আমার মনে হয় না তার আর ফিরে আসার কোনো সুযোগ আছে। যদি তিনি দেশে ফেরেন, তবে তাকে অবশ্যই প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।"

এর আগে সাকিবের বিষয়টি একজন খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করে সহনশীল থাকার কথা জানিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সেই মনোভাব সম্পূর্ণ বদলে গেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমি এবং সংশ্লিষ্ট সবাই তার বিষয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অনেক সহনশীল ছিলাম। কিন্তু এখন তার ফেরার জন্য কোনো বিশেষ ব্যবস্থা করার সুযোগ আমি দেখছি না। তিনি স্বৈরাচারদের মঞ্চে উঠে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাই জাতীয় দলের হয়ে তার খেলার কোনো সুযোগ আর নেই।"

উল্লেখ্য যে, গত ফেব্রুয়ারিতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর আমিনুল হক সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলেছিলেন। সে সময় তিনি সাকিব ও মাশরাফির বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো দ্রুত সমাধানের কথা বলেছিলেন, যেন তারা পুনরায় বাংলাদেশের ক্রিকেটে ফিরে আসতে পারেন। তখন তিনি এই বিষয়টিকে অত্যন্ত নমনীয় ও সহনশীলভাবে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার সেই অবস্থান এখন পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়েছে।