যাত্রীদের পছন্দের তালিকায় আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল এশিয়ার বিমান সংস্থাগুলো। এয়ারলাইন রেটিংস ডটকমের সাম্প্রতিক ‘ফ্লায়ার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ দেখা গেছে এশিয় দেশগুলোর এয়ারলাইনগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য। এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইউরোনিউজ এই খবরটি প্রকাশ করেছে।
এবারের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস মোট চারটি ভিন্ন বিভাগে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জিতেছে। তারা সেরা ইকোনমি এয়ারলাইন, সেরা কেবিন ক্রু সেবা এবং মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সেরা এয়ারলাইন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর পাশাপাশি যাত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি ও আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রেও এই সংস্থাটি শীর্ষস্থানে রয়েছে।
এবারের তালিকাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি কোনো বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মতামতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়নি। বরং সরাসরি বিশ্বজুড়ে ভ্রমণকারী সাধারণ যাত্রীদের ভোটের মাধ্যমে এই ফলাফল নির্ধারিত হয়েছে। যাত্রীরা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে সেরা কম খরচের এয়ারলাইন, সেরা ব্যবসায়িক শ্রেণি, সেরা ইকোনমি শ্রেণি এবং সেরা কেবিন ক্রুসহ বিভিন্ন বিভাগে তাদের পছন্দের বিমান সংস্থাকে ভোট দিয়েছেন।
যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি আস্থা ও স্বস্তি প্রদানকারী এয়ারলাইনগুলোর তালিকায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কান্তাস এবং তৃতীয় স্থানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইতিহাদ এয়ারওয়েজ। এই বিশেষ বিভাগে ইউরোপের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে এয়ারবাল্টিক।
সাশ্রয়ী বা কম খরচের বিমান সংস্থাগুলোর লড়াইয়ে প্রথম স্থানটি দখল করেছে ভিয়েতনামের ভিয়েতজেট এয়ার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জনপ্রিয় এয়ারএশিয়া। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের ইজিজেট ও অস্ট্রেলিয়ার জেটস্টার যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে।
সামগ্রিকভাবে ইউরোপীয় এয়ারলাইনগুলোর পারফরম্যান্স এবার আশানুরূপ ছিল না। বিভিন্ন বিভাগে শীর্ষস্থান দখল করতে পারেনি ইউরোপের কোনো বড় এয়ারলাইন। তবে ইউরোপের যাত্রীদের পছন্দের তালিকায় ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, লুফথানসা ও কেএলএম-এর নাম উঠে এসেছে।
এয়ারলাইন রেটিংস ডটকমের প্রধান নির্বাহী শ্যারন পিটারসেন এই ফলাফল সম্পর্কে বলেন, "যাত্রীদের আস্থা ও নিরাপত্তার অনুভূতি দীর্ঘ সময় ধরে মানসম্মত এবং ধারাবাহিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে তৈরি হয়। এবারের ফলাফলে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস এবং কান্তাসের মতো প্রতিষ্ঠিত বিমান সংস্থাগুলোর প্রতি যাত্রীদের সেই দৃঢ় আস্থা প্রতিফলিত হয়েছে।"











