বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের মান হ্রাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের বন্ড পুনঃক্রয় কর্মসূচি সম্প্রসারণের ঘোষণায় স্বর্ণের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো মূল্যবান এই ধাতুর দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা ১টা ৫২ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৬২ দশমিক ৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি গত ২৯ মে’র পর সর্বোচ্চ পর্যায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দামের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশে। এর পাশাপাশি মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৬২০ ডলারে পৌঁছেছে।

গোল্ডসিলভার সেন্ট্রাল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রায়ান ল্যান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের মান দুর্বল হওয়ার ফলে শুধু স্বর্ণ নয়, বরং সব ধরনের মূল্যবান ধাতুর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বন্ডের আয়ের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা স্বর্ণের বাজারের এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রুপার দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৯ দশমিক ৩১ ডলার হয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮৭৫ দশমিক ৭৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৫৬ দশমিক ৫৯ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

বিশ্ববাজারের এই তীব্র ঊর্ধ্বগতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারেও। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের গহনার দাম ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা। অন্যদিকে, সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা করা হয়েছে।