নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বঙ্গভবন। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই মর্যাদাপূর্ণ ও বিশেষ অনুষ্ঠানটি। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম শুক্রবার (২১ আগস্ট) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, শপথ অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং সবকিছু যথাযথ নিয়মে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে।
এই বিশেষ অনুষ্ঠানের সামগ্রিক আয়োজন ও পরিচালনা করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ পরিচালনা করবেন। পুরো অনুষ্ঠানটির সমন্বয় ও সুষ্ঠু পরিচালনায় বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, এই বিশেষ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্তরের ১২ শতাধিক বিশিষ্ট অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রণপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রাষ্ট্রপতি দরবার হলে প্রবেশ করবেন। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে এবং সবশেষে স্পিকার নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ পাঠ করাবেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা থাকে। সেই সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এই নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
নির্বাচনে সাধারণ ও সংরক্ষিত মিলিয়ে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন, যাদের মধ্যে নয়জন অনুপস্থিত ছিলেন। ভোট গণনার পর দেখা যায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫টি ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পান ৮৮টি ভোট। বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন এবং ওই দিন সন্ধ্যায় এর সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়।
উল্লেখ্য যে, সংসদীয় পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে এরপরের সাতটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার প্রথা চলে আসছিল। দীর্ঘ সময় পর এবার দুই প্রার্থীর উপস্থিতিতে পুনরায় ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হলো, যা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এক নতুন দিক উন্মোচন করল।















