বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের বিশাল রদবদলের মাধ্যমে মোট ৯৯ জন বিচারককে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শক্রমে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ শাখা এ-সংক্রান্ত একটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এই ব্যাপক রদবদলের আওতায় ৪৪ জন জেলা জজ, ২৬ জন অতিরিক্ত জেলা জজ, ২৫ জন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং দুইজন সিনিয়র সিভিল জজ ও দুইজন সিভিল জজকে নতুন দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে পদায়ন
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১৭ জন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারককে। এই তালিকায় রয়েছেন কিশোরগঞ্জের জন্য আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ রাহেলা পারভীন, মুন্সীগঞ্জের জন্য ফাতেমা তুজ জোহরা মুনা, নরসিংদীর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তারেক আজিজ, জয়পুরহাটের জন্য জান্নাতুল রাফিন সুলতানা, কুড়িগ্রামের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক কনক বড়ুয়া, দিনাজপুরের জন্য ফাতিমা খাতুন, মাগুরাের জন্য সাবিনা ইয়াসমিন এবং ঝিনাইদহের জন্য ময়মনসিংহের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ তারিকুল ইসলামকে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া কুষ্টিয়ার জন্য মো. আরিফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জন্য মোছা. আসমা মাহমুদ, ঢাকা মহানগরের জন্য তানিয়া ইসলাম, ময়মনসিংহের জন্য মোছা. নাসিমা খাতুন, কক্সবাজারের জন্য বান্দরবানের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ দাউদ হাসান, যশোরের জন্য চট্টগ্রামের মানি লোন কোর্টের যুগ্ম জেলা জজ মো. হাসিবুল হাসান, রাজবাড়ীর জন্য নড়াইলের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ শারমিন সুলতানা সুমি এবং বান্দরবানের জন্য খাগড়াছড়ির যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ শ্রী জ্ঞান তঞ্চঙ্গ্যাকে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
জেলা জজ ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের রদবদল
জেলা জজ পর্যায়ের বদলিতেও উল্লেখযোগ্য রদবদল দেখা গেছে। সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) স্বপন কুমার সরকারকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঝিনাইদহের ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. মাসুদ আলীকে আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব এবং পাবনার পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক (জেলা জজ) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত জেলা জজ সোনিয়া আহমেদকে আইন ও বিচার বিভাগের ডেপুটি সলিসিটর হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা জজ পর্যায়ের রদবদল
অতিরিক্ত জেলা জজ পর্যায়েও ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। বদলি তালিকায় রয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন সচিবালয়ের উপ-পরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর, যাকে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রংপুরের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোছা. মার্জিয়া খাতুনকে নীলফামারীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সত্যব্রত শিকদারকে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সুলতান উদ্দিন প্রধানকে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া নীলফামারীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনামুল হক বাসুনিয়াকে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত জেলা জজ মো. মতিউর রহমানকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, শফি উদ্দিনকে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. সুলতান মাহমুদকে পঞ্চগড়ের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও বদলি হওয়া অতিরিক্ত জেলা জজদের মধ্যে রয়েছেন মো. নুরু মিয়া (নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ), মো. জহির উদ্দিন (কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ), মো. শহীদুল ইসলাম (বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট), তাহেরা আনোয়ার (যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ), মো. শামীম সুফি (যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ), মো. নাহিদুর রহমান (গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ), ফাহমিদা খাতুন (মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ) এবং রায়হানুল ইসলাম (লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ)। এছাড়া মো. আক্তারুজ্জামানকে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, মো. শাহাদাৎ হোসেনকে নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, মো. ছানাউল্যাহকে মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ঢাকার মো. নুরুল আফসারকে দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক, পিরোজপুরের মো. শিবলী নোমান খানকে মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত জেলা জজ) মো. আজাদুর রহমান শেখকে কুমিল্লার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলামকে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পর্যায়ের রদবদল
যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পর্যায়ে বদলি করা হয়েছে বেশ কিছু বিচারককে। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরীকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, ঢাকার অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক মো. মোশাররফ হোসেনকে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত ইসরাত জাহানকে হবিগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুল ইসলামকে ঢাকার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের মো. মেহেদী হাসানকে সিরাজগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত হরিদাস কুমারকে সিলেটের জেলা জুডিসিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর এবং দিনাজপুরের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের ইকবাল হাসানকে রংপুরের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সিনিয়র সিভিল ও সিভিল জজ পর্যায়ের বদলি
সিনিয়র সিভিল জজ ও সিভিল জজ পর্যায়ের বদলিতে মেহেরপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদুর রহমানকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (সিনিয়র সিভিল জজ), চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের সিনিয়র সিভিল জজ আবদুল্লাহ আল হাসিবকে ঢাকার বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, গাজীপুরের সিভিল জজ মাসুমা রহমানকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আইন কর্মকর্তা এবং নোয়াখালীর সিভিল জজ এস এম শামীম রেজাকে ঝালকাঠির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব হস্তান্তর ও যোগদানের নির্দেশনা
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বদলি হওয়া সকল বিচারককে আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের বর্তমান দায়িত্ব নির্ধারিত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে যারা বর্তমানে প্রশিক্ষণ বা ছুটিতে রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ বা ছুটি শেষ হওয়ার পর নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।




















