শীতপ্রধান দেশ যুক্তরাজ্যে এখন নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ। জলবায়ু পরিবর্তন কমিটির (সিসিসি) এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, ২০৫০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত গরমের কারণে দেশটির প্রায় ৯২ শতাংশ বাড়ি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। এই আশঙ্কার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বাস্তবেও; মে ও জুন মাসের রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে ইতিমধ্যে প্রায় তিন হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএইচএসএ) বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তীব্র গরমে ইংল্যান্ডে অতিরিক্ত ২,৮৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মে মাসে মারা গেছেন ৭৫৩ জন এবং জুনের 'রেড এলার্ট' চলাকালীন প্রাণ হারিয়েছেন ২,১২৪ জন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের পুরো গ্রীষ্মকালীন সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১,৫০৪ জন, যার তুলনায় এবারের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। জনস্বাস্থ্যের ওপর এই প্রভাবকে অত্যন্ত ভয়াবহ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার দিনগুলোর সঙ্গে শীতল দিনগুলোর মৃত্যুর তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই হিসাব বের করা হয়েছে।

ইউকেএইচএসএ-এর বিজ্ঞানী রস থম্পসন এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, যুক্তরাজ্যের মানুষ ঐতিহাসিকভাবে শীতকালীন অসুস্থতায় অভ্যস্ত, কিন্তু এখন গ্রীষ্মের এই চরম দাবদাহ হাজার হাজার মানুষের স্বাস্থ্যে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। জুলাই মাসের দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের হিসাব এখনও এই তালিকায় যুক্ত হয়নি, ফলে সংস্থাটির আশঙ্কা ২০২৬ সাল হতে পারে তাপজনিত মৃত্যুর সর্বোচ্চ বছর। এর আগে ২০২২ সালের গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ ২,৯৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

সিসিসি গত বছর স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য মোটেও প্রস্তুত নয়। এই সংকটের কথা মাথায় রেখে ইউকেএইচএসএ গ্রীষ্মের শুরু থেকেই বিশেষ প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছে। চরম পরিস্থিতি এড়াতে তারা কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার সীমা নির্ধারণ এবং স্কুল ও হাসপাতালগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) চালুর জোরালো সুপারিশ করেছে।