দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে আগামী ছয় মাসের জন্য ১৫ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এই বিশাল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির জন্য ব্যয় হবে প্রায় ১৬ হাজার ৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সরকার টু সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রায়ত্ত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই জ্বালানি তেল আমদানি করবে। আমদানিকৃত এই জ্বালানির তালিকায় রয়েছে ডিজেল, জেট এ ওয়ান, ফার্নেস অয়েল, অকটেন এবং মেরিন ফুয়েল। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই আমদানির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে।
জ্বালানি তেল আমদানির পাশাপাশি বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বগুড়া জেলার ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবটি অন্যতম। এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১২৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। সরকারের ধারণা, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যাপ্রবণ এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে না এবং দুর্যোগকালীন সময়ে স্থানীয় জনগণের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত হয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে।
একই বৈঠকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনে লক্ষ্মীপুরে ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার একটি বাফার সার গুদাম নির্মাণের প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়। এই গুদাম নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৪৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এর ফলে কৃষিখাতে সারের মজুত এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থ বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, বৈঠকে বিদ্যুৎ খাতের প্রয়োজনীয় ক্রয় এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পসংক্রান্ত আরও কয়েকটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়নে অতিরিক্ত কয়েক শ কোটি টাকা ব্যয় হবে। সামগ্রিকভাবে, এই সিদ্ধান্তগুলো দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।









