বক্স অফিসে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে মাত্র ১২ দিনেই বিশ্বজুড়ে ৭০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮,৫৮৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা) আয়ের এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে প্রখ্যাত নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’। বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নোলানের এই লেটেস্ট সৃষ্টিটি যেন এক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বহুল প্রতীক্ষিত এই গ্রিক মহাকাব্যনির্ভর ছবিটি উত্তর আমেরিকার বাজারে ৩২০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৪০৭ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করে দর্শক ও সমালোচক উভয়ের মনেই জায়গা করে নিয়েছে। ফলে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট টিকিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭২৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলারে।
এই অভাবনীয় আয়ের মধ্য দিয়ে ছবিটি চলতি ২০২৬ সালের সবচেয়ে বেশি আয় করা চলচ্চিত্রের তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। তবে এই তালিকায় শীর্ষ তিনটি ছবির সাথে প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে। চলতি বছরে হলিউডের সর্বোচ্চ আয়ের তালিকায় রয়েছে জুন মাসে মুক্তি পাওয়া ‘টয় স্টোরি ৫’ (১.০২ বিলিয়ন ডলার), এপ্রিলে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’ (১.০০১ বিলিয়ন ডলার) এবং ‘মাইকেল’ (১.০০১ বিলিয়ন ডলার)। তবে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই নোলানের এই মহাকাব্যিক সিনেমাটি এই অভিজাত ক্লাবে যোগ দিয়ে ১০০ কোটি ডলার বা বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে। এটি একজন নির্মাতা হিসেবে ক্রিস্টোফার নোলানের চলচ্চিত্রকে কেবল বাণিজ্যিক পণ্য নয়, বরং একটি বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত করার অনন্য ক্ষমতাকেই পুনরায় প্রমাণ করে।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চলচ্চিত্র বাজার চীনে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শিত হয়নি ‘দ্য ওডিসি’। চীনের বাজার ছাড়া এই পরিমাণ আয় করাকে বিনোদনশিল্পে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং বিস্ময়কর হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চীনে সিনেমাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। আগামী ১৪ আগস্ট থেকে দেশটির প্রায় ৮০০টি আইম্যাক্স পর্দায় এবং হাজার হাজার সাধারণ অডিটোরিয়ামে চলচ্চিত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পাবে, যা এর সামগ্রিক আয় আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে আগামী শুক্রবারে সনি ও মার্ভেলের বিগ বাজেট অ্যাডভেঞ্চার ছবি ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ছবিটি সর্বকালের অন্যতম সর্বোচ্চ ওপেনিং আয়ের রেকর্ড গড়বে। তবে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে দাঁড়িয়েও বক্স অফিসে ‘দ্য ওডিসি’র বাণিজ্যিক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, মুক্তি পাওয়ার তৃতীয় উইকেন্ডে ছবিটি আরও ৫০ থেকে ৬০ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের উদ্দেশ্যে নির্মিত ড্রামা ঘরানার চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে এমন আয় করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে, যা এই ছবির বিশেষত্বকে আরও ফুটিয়ে তোলে।
হোমারের ৩,০০০ বছরের পুরোনো মহাকাব্য অবলম্বনে নির্মিত এবং গ্রিক রাজা ওডিসিউসের চরিত্রে ম্যাট ড্যামন অভিনীত ‘দ্য ওডিসি’ তৈরি করতে মোট ২৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এটি ক্রিস্টোফার নোলানের পরিচালিত ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র। বাণিজ্যিকভাবেও এটি খুব দ্রুত তার ক্যারিয়ারের সফলতম ছবি হিসেবে জায়গা করে নিতে যাচ্ছে। সিনেমা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি নোলানের আগের ব্লকবাস্টার ‘দ্য ডার্ক নাইট’ (১.০০৮ বিলিয়ন ডলার) এবং ২০১২ সালের ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’ (১.০৮ বিলিয়ন ডলার)-এর মোট আয়কে ছাড়িয়ে তার সর্বকালের সেরা উপার্জনকারী চলচ্চিত্রে পরিণত হতে চলেছে।
বিশেষ করে আইম্যাক্স ফরম্যাটে ছবিটি দর্শক টানতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ফিচার ফিল্ম সম্পূর্ণ আইম্যাক্স ক্যামেরায় শুট করা হয়েছে, যার ফলে কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই বিশ্বজুড়ে এর আইম্যাক্স শোগুলোর টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত ছবিটির বৈশ্বিক টিকিট বিক্রির মধ্যে কেবল আইম্যাক্স থেকেই এসেছে ১৪০ মিলিয়ন ডলার। ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর পর আইম্যাক্সের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম ছবি হিসেবে মাত্র ১০ দিনে ১০০ মিলিয়ন ডলার আয়ের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে নোলানের এই মহাকাব্যিক সৃষ্টি।









