মোঃ মমিন আলী

নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বান্দাইখাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৮০ বছরের পুরোনো প্রধান প্রবেশপথ ভূমি অফিসের নতুন ভবনের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বান্দাইখাড়া উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। এ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন। স্থানীয়দের মতে, বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমের স্বার্থে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত প্রধান প্রবেশপথটি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়-সংলগ্ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণকাজ শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ভবন নির্মাণের পরও প্রায় ৩০ ফুট জায়গা অবশিষ্ট থাকবে বলে জানা গেলেও সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত প্রধান প্রবেশপথটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এলাকাবাসীর দাবি, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দক্ষিণ পাশের এই গেট ব্যবহার করে আসছেন। প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মরহুম এলাহী বক্স সরকার এবং সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. এমদাদুল হক সরকারের সময় থেকেও এটি বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

এদিকে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইবনে সিনা (ছনি) সর্বপ্রথম বিষয়টি জানতে পেরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়ে জরুরি আলোচনা করেন। আলোচনায় বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত প্রধান প্রবেশপথ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যালয়ের স্বার্থ, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত এবং প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য রক্ষায় বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এসে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমান প্রবেশপথটি বন্ধ করে উত্তর পাশের নদীতীরবর্তী পুরোনো ও প্রায় পরিত্যক্ত গেট দিয়ে চলাচল করতে হলে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে। বিশেষ করে ছাত্রীদের নিরাপত্তা, যাতায়াতের সুবিধা এবং অতিরিক্ত সময় ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এতে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ায় অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় ব্যয় হতে পারে।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, নতুন ভবন নির্মাণের পরও যেখানে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা থাকবে, সেখানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য একটি নিরাপদ পথ সংরক্ষণ করা হবে না কেন? তাদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ও জনদুর্ভোগের বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

এলাকাবাসী ভূমি অফিসের সীমানা প্রাচীরের নকশায় প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে বিদ্যালয়ের বর্তমান দক্ষিণ পাশের প্রবেশপথটি বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, "উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত প্রবেশপথ বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে ফেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।"