রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের হয়রানি বা অসুবিধা সৃষ্টি না করে একটি স্বস্তিদায়ক ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, ব্যবসা পরিচালনায় কোনো প্রকার অন্তরায় সৃষ্টি করে কর আরোপ বা রাজস্ব আদায়ের কোনো পদক্ষেপ সরকার গ্রহণ করবে না। বরং করদাতাদের সাথে নিবিড় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু, কার্যকর এবং ব্যবসাবান্ধব করব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যালয়ে এনবিআর officials এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সাথে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বৈঠকের পর ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া পরিবর্তনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী জানান, মাসিকের পরিবর্তে প্রতি দুই মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা পুনরায় ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। এর পাশাপাশি করদাতাদের দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন রাজস্ব মামলা এবং বিভিন্ন জটিল ইস্যুগুলো দ্রুত সমাধানের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "করদাতাদের সাথে আলোচনা করে একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর করব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।"
জুলাই মাসের রাজস্ব আদায় এবং টানা তিন মাসের ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের ফলে তৈরি হওয়া জটিলতার বিষয়ে জানতে চাইলে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং খুব দ্রুতই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও দৈনন্দিন ব্যবসা পরিচালনায় কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হবে না। ব্যবসায়ীদের ওপর এমন কোনো কর বা রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া চাপিয়ে দেওয়া হবে না, যার ফলে তাদের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি অনেকাংশে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের দেওয়া করের ওপর নির্ভরশীল। তাই ব্যবসায়ীদের জন্য ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং একটি সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত পরিবেশে রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তবে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভ্যাট আদায় ২২ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের কোনো সরাসরি উত্তর দেননি অর্থমন্ত্রী।





















