কক্সবাজারের পেকুয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের মূল রাজনৈতিক সমন্বয় হয়েছিল তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায়। সেই সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি যদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই সমন্বয়ের কাজটি না করতেন, তাহলে মাত্র ছত্রিশ দিনের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফলভাবে সম্পন্ন হতো কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। শনিবার তিন অক্টোবর দুপুর দেড়টার দিকে পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা মোরারপাড়ায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামে প্রথম শহীদ ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন তিনি। এ সময় তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেপথ্যে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কৌশলগত ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, যারা জুলাই আন্দোলনে বিএনপির অবদান নিয়ে অহেতুক প্রশ্ন তোলেন, তাদের জন্য একটাই উত্তর হলো ষোলো জুলাই আত্মাহুতি দেওয়া ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরাম। শহীদ ওয়াসিমের শ্রদ্ধেয় পিতার পাশে দাঁড়িয়ে এবং তার কবর জিয়ারত করে নিজেকে ধন্য মনে করছি। দুই হাজার চব্বিশ সালের ষোলো জুলাই যে বেদনা ও কষ্টের কথা সালাহউদ্দিন আহমদের মুখে শুনেছিলাম, আজ শহীদ পরিবারের পাশে এসে সেই স্মৃতি আবার মনে পড়ছে। দুই হাজার চব্বিশ সালের আন্দোলনকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনে রূপ দেওয়ার রাজনৈতিক পটভূমি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দুই হাজার আঠারো সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ভিপি নুরুল হক নুর এবং আমাকে দিয়েছিলেন। দুই হাজার চব্বিশ সালে যখন প্রতারণার মাধ্যমে পুনরায় কোটা ফিরিয়ে আনা হলো, তখন আমি তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে কথা বলি।
আমার স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, এই আন্দোলনকে শুধু কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, এটিকে স্বৈরাচার পতনের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। তারেক রহমানের নির্দেশনায় সালাহউদ্দিন আহমদ তখন মূল সমন্বয়ের কাজ শুরু করেন। একদিকে ছাত্ররা রাজপথে লড়াই করেছে, অন্যদিকে আমরা পেছন থেকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা নিশ্চিত করেছি। গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের হত্যার বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পেটোয়া বাহিনী অসংখ্য লাশ গুম করায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে শহীদদের সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা কঠিন ছিল। তবে জাতিসংঘ তাদের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানে চৌদ্দশ বা তার অধিক মানুষ শহীদ হয়েছেন। শহীদ ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদসহ যাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, প্রতিটি হত্যার বিচার এই বাংলার মাটিতেই হবে। কবর জিয়ারত শেষে শহীদ ওয়াসিমের পিতা শফিউল আলমের কাঁধে হাত রেখে রাশেদ খাঁন বলেন, আপনি এতটুকু বিশ্বাস রাখুন, ইনশাআল্লাহ আপনি পূর্ণ ন্যায়বিচার পাবেন। জাতীয় পর্যায়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এই শহীদ স্মৃতিতে আসেন, তাই এখানে প্রবেশের প্রধান রাস্তাটির টেকসই উন্নয়নের উদ্যোগ শিগগিরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গ্রহণ করবেন।
পুরো বিএনপি পরিবার আপনাদের পাশে রয়েছে। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদিদ মুকুটের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, বিশ্বাস রাখুন সব সমস্যার সমাধান তিনিই করবেন। কবর জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাতে শহীদ ওয়াসিমের পিতা শফিউল আলম, পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আনিসুল ইসলাম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদিদ মুকুট, তাঁতীদলের আহ্বায়ক জয়নাল আবদীন, গণঅধিকার পরিষদ কক্সবাজার জেলা সভাপতি প্রাইম কাদের, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাঈমুর রহমান হৃদয়, সদস্য সচিব আবুল কাশেম নুরী, ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম ও জুলাই যোদ্ধা হিরণ সরওয়ারসহ স্থানীয় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।





















