সাবেক সংসদ সদস্য ও মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নতুন আমির করার দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। শনিবার (০৩ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘জাগ্রত শ্রাবণ’ নামের একটি ফেসবুক পেজের পোস্ট শেয়ার করে তিনি এ দাবি জানান। শেয়ার করা পোস্টটি ছিল ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময়ের একটি টকশোর ভিডিও সংক্রান্ত।
পোস্টের ক্যাপশনে রাশেদ খান লেখেন, ‘জুলাই গাদ্দার মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানকে জামায়াতের নতুন আমির করার দাবি জানাই!’ শেয়ার করা ওই টকশোর ভিডিওতে আক্তারুজ্জামান ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। টকশোতে উপস্থাপক প্রশ্ন করেন, যারা আজকে শিক্ষার্থীর আন্দোলন করছে এরা সবাই রাজাকারের সন্তান? জবাবে আক্তারুজ্জামান বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি—আজকে শিক্ষার্থীরা যারা আন্দোলন করছে, এরা সবাই রাজাকারের সন্তান, হান্ড্রেড পারসেন্ট মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী।
উপস্থাপক এরপর প্রশ্ন করেন, আপনি কি রাশেদ খানকেও রাজাকারের সন্তান বলতে চাচ্ছেন? উত্তরে তিনি বলেন, আপনি দেখেন না, রাশেদ খানের ব্যাকগ্রাউন্ড ও অতীত দেখেন না। আমি রাশেদ খানকে বলছি। ওই মন্তব্যের ভিডিও সামনে এনেই রাশেদ খান নতুন করে জামায়াতের আমির করার দাবি তুলে পোস্ট দেন।
এর আগে শুক্রবার (০২ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে আঘাতের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের চাপের কারণে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দেয়। এতে লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, পরিস্থিতি শান্ত করার সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালকের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’ এবং ‘ঘাড় ধরে বের করে দেবো’ বলে হুমকি দেন। এজাহারে আরও বলা হয়, ওই সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী বিমানবন্দরের সংরক্ষিত (কেপিআই) এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন নিষেধ করলে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে অশোভন আচরণ ও গালিগালাজ করেন এবং পরে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এছাড়া সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও রয়েছে। উল্লেখ্য, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি থেকে একাধিকবার বহিষ্কৃত হন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। পরে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।





















