ছাত্রশিবিরের সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম তার পূর্বের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সরকারি চাকরিতে সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সুযোগ পাবেন না—এমন মন্তব্যটি তিনি মূলত রাজনৈতিক কৌশলের অংশ বা ‘রাজনৈতিক রেটরিক’ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। সম্প্রতি এনপিবি নিউজের নিয়মিত টকশো ‘প্রশ্নের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি নিজের বক্তব্যের এই ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের সদস্যদের সরকারি চাকরির সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তানভীর বারী হামিম বলেন, ‘মেধা থাকলে তারা অবশ্যই সরকারি চাকরি পাবেন। আমি কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট দলের কথা উল্লেখ করিনি, বরং আমার বক্তব্য ছিল শুধু ছাত্রলীগের বিষয়ে।’
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনেকের বাদ পড়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কেন কেউ বাদ পড়েছেন, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা যাচাই-বাছাই একটি নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া, যা প্রতিটি পর্যায়ে অনুসরণ করা হয়।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি বিতর্কিত পোস্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের কোনো চাকরি হবে না’—এই কথাটি তিনি একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে বলেছিলেন। তার দাবি, প্রাথমিক নিয়োগে অনেকের বাদ পড়ার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে দেশের বাইরে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিয়ে মানুষের আবেগ নিয়ে খেলতে চাইছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যেই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন।
হামিম আরও বলেন, ‘আমরা যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তি এবং গণঅভ্যুত্থানের মূল কারিগর, আমরা থাকতে ছাত্রলীগের চাকরি হবে না’—এটি ছিল তার রাজনৈতিক বক্তব্যের একটি অংশ। তবে এই মন্তব্যের পর ছাত্রশিবিরের অনেক নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ‘প্রোপাগান্ডা’, ‘মিসইনফরমেশন’ এবং ‘ডিসইনফরমেশন’ ছড়ানো হচ্ছে।
পরিশেষে ছাত্রশিবিরের নেতাদের উদ্দেশে হামিম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালিগালাজ এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। তিনি মনে করেন, এমন পদক্ষেপ নিলে ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন শক্তির মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্য বজায় থাকবে, যা বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।





















