আইপিএলের আগামী আসরের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে সব ফ্র্যাঞ্চাইজির। তবে এই প্রস্তুতির মাঝেই এক বড়সড় সংকটের মুখে পড়েছে সানরাইজার্স হায়দারাবাদ। দলের তারকা ওপেনিং ব্যাটার অভিষেক শর্মা এই ফ্র্যাঞ্চাইজি ছাড়ার কথা ভাবছেন বলে জোরালো গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। রিটেনশন বা খেলোয়াড় ধরে রাখার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তিনি। বিভিন্ন ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অভিষেকের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, গুজরাট টাইটানস এবং পাঞ্জাব কিংসের মতো শক্তিশালী দলগুলোর নাম উঠে আসছে। এছাড়া দিল্লি ক্যাপিটালসও তার জন্য একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই পুরো টানাপড়েনের মূলে রয়েছে অধিনায়কত্ব নিয়ে মতপার্থক্য। জানা গেছে, সানরাইজার্স হায়দারাবাদ কর্তৃপক্ষ ঈশান কিষানকে দলের অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা অভিষেক শর্মার মনে তীব্র অসন্তুষ্টির সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অভিষেকের মনেও অধিনায়ক হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে এই দলের সাথে যুক্ত থাকায় তিনি মনে করেছিলেন যে, নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়ার যোগ্যতা তার রয়েছে। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তার প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় ক্রিকেটার ও ম্যানেজমেন্টের মধ্যে এক ধরণের দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে গোয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মিনি নিলামের আগে দলগুলোর হাতে এখনো পর্যাপ্ত সময় রয়েছে। ধরে রাখা খেলোয়াড়দের চূড়ান্ত তালিকা জমা দেওয়ার জন্য এক মাসেরও বেশি সময় বাকি। এই মধ্যবর্তী সময়টি অভিষেক এবং আগ্রহী অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগে উভয় পক্ষই নিজেদের বিকল্পগুলো যাচাই করে দেখার সুযোগ পাবে।
পাঁচবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এই মুহূর্তে অভিষেকের প্রতি সবচেয়ে বেশি আগ্রহী বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই গুজরাট টাইটানস এবং পাঞ্জাব কিংসও। অন্যদিকে, দিল্লি ক্যাপিটালসের সম্ভাবনাটি বেশ চমকপ্রদ। কারণ, কিংবদন্তি ক্রিকেটার যুবরাজ সিং বর্তমানে দিল্লি ক্যাপিটালসের মেন্টর বা পরামর্শদাতার ভূমিকায় নিয়োজিত আছেন। যুবরাজ সিং এবং অভিষেকের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক এবং মেন্টর-শিষ্যের সম্পর্ক রয়েছে। এই বিষয়টিকে বিবেচনায় নিলে দিল্লি ক্যাপিটালস অভিষেকের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে।
সানরাইজার্স হায়দারাবাদের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঈশান কিষানের অধিনায়কত্ব নিয়ে অভিষেকের অসন্তুষ্টি এখন আর গোপন নেই। চলতি বছরের আইপিএল আসরে প্যাট কামিন্স যখন চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন, তখন ঈশান কিষান অন্তর্বর্তীকালীন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কামিন্স সুস্থ হয়ে ফেরার পর পুনরায় নিয়মিত অধিনায়ক হয়ে উঠলেও, আগামী আসরের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিকল্পনা ভিন্ন। তারা ঈশান কিষানকে পূর্ণকালীন অধিনায়ক হিসেবে দেখতে চায়। অন্যদিকে, অভিষেকের জন্য সর্বোচ্চ ‘সহ-অধিনায়ক’ পদের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা তার উচ্চাকাঙ্ক্ষার তুলনায় যথেষ্ট নয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং লখনউ সুপার জায়ান্টস ছাড়া বাকি দলগুলোর স্কোয়াড মোটামুটি স্থিতিশীল বা চূড়ান্ত। তাই অভিষেক যদি হায়দারাবাদ ছাড়েন, তবে তার জন্য বিকল্প পথ সীমিত হতে পারে। তবে বড় প্রশ্ন remains যে, এই বিচ্ছেদ কীভাবে কার্যকর হবে? এটি কি অর্থের বিনিময়ে কোনো চুক্তি হবে, নাকি খেলোয়াড় অদলবদল বা প্লেয়ার ট্রেডের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে? এই জটিল বিষয়গুলো নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।
তবে এই সমস্ত গুঞ্জন অস্বীকার করেছেন সানরাইজার্স হায়দারাবাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে. শানমুগাম। তিনি গণমাধ্যমের সামনে অভিষেকের অসন্তোষের খবরকে সম্পূর্ণ ‘অসত্য’ বলে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে দলের ভেতরে কোনো সমস্যা নেই। তবে আনুষ্ঠানিক এই দাবির বিপরীতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পর্দার আড়ালে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সাথে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছেন অভিষেক শর্মা।





















