সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এবং বিশ্বখ্যাত হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সের টাকা তৃতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে গণনা করা হচ্ছে। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো মাত্র চার দিনের সংগৃহীত দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হয়েছিল, যেখানে নগদ ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। প্রথম গণনার ১৮ দিন পর, অর্থাৎ ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খোলা হয়। সেই সময়ে নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা এবং নানা ধরনের সামগ্রী পাওয়া গিয়েছিল।

দ্বিতীয় দফার গণনার ৩৪ দিন পর এবার তৃতীয়বারের মতো এই বিশেষ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে গঠিত বিশেষ কমিটির সদস্য এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, শনিবার সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণনা শুরু হয়েছে এবং সম্পূর্ণ হিসাব শেষে প্রাপ্ত অর্থের বিস্তারিত তথ্য সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী ১৮ জুন পুরাতন তিনটি দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হলে তা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। এই টানাপোড়েনের মাঝেই সরকার তাকে প্রত্যাহার করে নেয়। তবে প্রত্যাহারের আদেশ আসা সত্ত্বেও, ২২ জুন সারওয়ার আলমের তত্ত্বাবধানেই মাজারের ৭০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনা করা হয়।

পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে গত ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউজে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের সময় এক মাসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও কমিটি এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা রূপরেখা প্রদান করতে পারেনি। এর ফলে মাজারের স্থায়ী ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা অর্জনে বিলম্ব হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।