শাহজাহান আলী মনন
সোসিয়েবল ইনটেলেকচুয়াল প্রোগ্রেস (এসআইপি) এ্যাবাকাস নীলফামারীর সৈয়দপুর শাখার উদ্যোগে "ইন্টারন্যাশনাল মেগা কালারিং কম্পিটিশন' অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ১০ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত সৈয়দপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এই আয়োজন করা হয়।
এতে সৈয়দপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণীর প্রায় সাড়ে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত ছবি রং করা আর তৃতীয় থেকে সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিজে ছবি এঁকে রং করা ছিল প্রতিযোগিতার বিষয়। প্রথম ১০ জনকে পুরষ্কৃত করাসহ অংশ গ্রহণকারী সকলকে সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।
কমিউনিটি সেন্টারের তৃতীয় তলার হলরুমে এই কম্পিটিশন চলাকালে একই সময়ে দ্বিতীয় তলার হলরুমে প্যারেন্টসদের নিয়ে এ্যাবাকাস বিষয়ে ডিসকাশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসআইপি এ্যাবাকাস এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক রাশেদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ট্রেইনার সাম্মী জামান ও সৈয়দপুর শাখার ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজিবুর রহমান।
সৈয়দপুর শাখা ডিরেক্টর আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, অন্যতম ডিরেক্টর ও নুরুল হিকমা মডেল মাদরাসার অধ্যক্ষ মুজাহিদুল ইসলাম, ডিরেক্টর ডা. সাজেদুল ইসলাম, ডিরেক্টর তানভীর সরকার ও ডিরেক্টর আবু সাইদ। আলোচনা শেষে সৈয়দপুর শাখার কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের দুই মাসের অগ্রগতির ডেমো প্রদর্শন করে।
এ্যাবাকাস বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে প্রধান অতিথি অধ্যাপক রাশেদুজ্জামান বলেন, আমরা উন্নত বিশ্বের তৈরিকৃত প্রযুক্তি ব্যবহারকারী মাত্র। নিজেরা সেই প্রযুক্তি তৈরির সক্ষমতা অর্জনে সচেষ্ট নই। এর কারণ আমাদের ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা। যা শিক্ষিত করে তুলছে কিন্তু স্কিলড করছেনা।
চলমান বিশ্ব হলো প্রযুক্তির। আর এর সাথে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে হলে প্রয়োজন সেই প্রযুক্তিগত জ্ঞানে তুখোড় হওয়া। প্রতিটি শিশুই প্রবল মেধা নিয়ে জন্মায়। কিন্তু সেই মেধার সঠিক চর্চা করার সুযোগ না থাকায় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারছেনা। তাছাড়া আমরা অন্যদের তৈরি প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছি। বিশেষ করে নানা ডিভাইসে বন্দি হয়ে গেছি।
এর কুপ্রভাবে বর্তমান প্রজন্ম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আমাদের ভবিষ্যত চরমভাবে বিপর্যয়ের পথে। এথেকে উত্তরণের জন্য এখনই আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আর তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মন ও মেধাকে শানিত করে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে এ্যাবাকাস অত্যন্ত পরীক্ষীত এবং বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা শিক্ষা পদ্ধতি।
এ্যাবাকাস হলো শিশুর মননশীলতা, মেধা ও প্রতিভাকে বিকশিত করে তোলার অন্যতম একটা টুলস্ বা উপকরণ। যা খেলার ছলে শিশুর মনে শিক্ষা গ্রহণের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে এবং ব্রেইন ডেভেলপ করে সৃষ্টির নেশায় মত্ত করে। যা যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে শিশুরা যুগোপযোগী হয়ে গড়ে উঠছে।
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত অনেক প্রতিষ্ঠানই এ্যাবাকাস নিয়ে কাজ করছে। এমনকি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও প্রচলিত একাডেমিক শিক্ষার সাথে এ্যাবাকাসও এপ্লাই করছে। এসআইপি এ্যাবাকাস শেখানোর পাশাপাশি ব্রেইন জিম ও স্পিড রাইটিং শেখায়। ফলে শিশুর ব্রেইন শক্তিশালী হয়ে উঠে।
শিশুর সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য এ্যাবাকাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে বিধায় গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে বিশেষ পারদর্শী হিসেবে সন্তানকে গড়ে তুলতে এ্যাবাকাস শিক্ষা গ্রহণের বিকল্প নাই। তাই শুন্য থেকে ৫ ও ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের দুইটা গ্রুপে মোট ৩ বছরের কোর্স করানো প্রয়োজন। শতভাগ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে এসআইপি এ্যাবাকাস।
কর্তৃপক্ষ জানান, এ পর্যন্ত সারাদেশে ৮ টি শাখা করেছে এসআইপি এ্যাবাকাস। এবছরের মধ্যেই তাদের ২০ টা শাখা করার লক্ষ্য রয়েছে। সৈয়দপুর শাখাটি মাত্র ২ মাস হলো কার্যক্রম শুরু করেছে। শহরের ক্যান্টনমেন্ট সড়কের চেকপোস্ট সংলগ্ন এই শাখা অফিস। আগামীকাল ও পরশু দুই দিন এখানে ফ্রী ট্রায়াল ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে।
এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানোসহ ভর্তির ক্ষেত্রে আজকের কালার কম্পিটিশন ও ডিসকাশন সেশনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ ছাড়ে ভর্তির সুযোগ ঘোষণা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে মাত্র ৩ হাজার টাকায় ভর্তি ও মাসিক বেতন ২ হাজার ২ শ' টাকা নেওয়া হবে। আর ক্লাস প্রতি শুক্রবার ও শনিবার দেড় ঘন্টা করে হবে।















