​সাধন সাহা জয়

​ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের ৫৯ নং ফরদাবাদ উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

নবগঠিত এই কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ফরদাবাদ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের নতুন কমিটির প্রত্যাশিত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার সম্পাদক মো. কামরুল হাসান।

​স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, নবনিযুক্ত সভাপতি মো. কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা পর্দার আড়ালে থেকে তাকে এই দায়িত্বে এনেছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন তারা।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, "একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটির সভাপতি পদে এমন নিয়োগের বিষয়টি শিক্ষার পরিবেশের জন্য উদ্বেগের সৃষ্টি করতে পারে। আমরা দ্রুত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছি।"

​এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সাথে নবনিযুক্ত সভাপতির ছবি ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলে আলোচনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

​এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. কামরুল হাসান সাংবাদিকদের জানান, অতীতে তিনি দলীয় রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি ও মামলার বিষয় সম্পর্কে তার স্পষ্ট জানা নেই। এলাকার সাধারণ মানুষ তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর-নাহার বেগম বলেন, "বিষয়টি আমাদের পুরোপুরি জানা ছিল না। গ্রামবাসী উনাকে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। উনাদের রাজনৈতিক পদ-পদবি আছে কি না, সে বিষয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।"

​বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ এ প্রসঙ্গে জানান, এ বিষয়ে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত সাপেক্ষে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখাই প্রধান অগ্রাধিকার।

​বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, "অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

​বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে দ্রুত এই বিষয়ের যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।