মোহাম্মদ সেলিম
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদ্য অনুমোদিত ২৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ক্রীড়া সংগঠক ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত ১৮ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মং চিনু মার্মার স্বাক্ষরে এই কমিটি অনুমোদিত হয়।
কমিতিতে পদাধিকার বলে ইউএনও সভাপতি হিসেবে রয়েছেন এবং সাতজন সরকারি কর্মকর্তা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত আছেন। তবে বাকি ১৮টি পদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও যুবদল সভাপতিসহ ১৩ জন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীকে রাখা হয়েছে। এছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন দলীয় ও ক্রীড়া কমিটিতে থাকা আরও পাঁচজনকে নতুন কমিটিতে স্থান দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
কমিটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে সমালোচনা।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুশ শুক্কুর, পোকখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম উল্লাহ এবং ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশিদ দাদাসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটি গঠনের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। এছাড়া উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়ন থেকে সদস্য রাখা হলেও সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের পৈতৃক এলাকা পোকখালী ইউনিয়ন থেকে কাউকে কমিটিতে রাখা হয়নি, যা তাকে অবজ্ঞার শামিল বলে তারা উল্লেখ করেন।
ঈদগাঁও উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সলিম উল্লাহ জিহাদী জানান, প্রশাসন বা ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কমিটি গঠনের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। কমিটিতে অধিকাংশ সদস্য ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আওয়ামী আমলের সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং দ্রুত কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানান।
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঈদগাঁওয়ের ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রাখা প্রকৃত সংগঠক ও ব্যক্তিদের কমিটিতে রাখা হয়নি।
বিশেষ করে, ঈদগাঁও উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম উদ্দিন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, খেলাধুলার প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এবং উপজেলায় কর্মরত জাতীয়, আঞ্চলিক বা জেলা পর্যায়ের কোনো গণমাধ্যমকর্মীকেই কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি। বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের মতো গণমাধ্যমকর্মীদের অবমূল্যায়ন করার এই প্রবণতা এখনো বজায় রয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনিও কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানান।
স্থানীয়দের বড় একটি অংশের প্রশ্ন—ফ্যাসিবাদবিরোধী অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও ত্যাগী ক্রীড়াবিদদের বাদ দিয়ে কীভাবে বিগত সরকারের সুবিধাভোগী অর্ধডজন ব্যক্তি নতুন কমিটিতে স্থান পেলেন? এর পেছনে কোনো ধরনের সমঝোতা বা আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, তা নিয়েও জনমনে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মং চিনু মার্মার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।















