আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুলশানের বাসভবনে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হতে যাচ্ছে। একে কেন্দ্র করে পর্যায়ক্রমে সচিবালয়, জাতীয় সংসদ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার এক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় এই তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (এলজিআরডি)-র প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

মীর শাহে আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ চালুর পর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাতেও এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং জাতীয় সংসদে সৌর প্যানেল স্থাপনের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়ে গেছে। উল্লেখ্য যে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দ্রুত ত্বরান্বিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীদের নিজ নিজ কার্যালয়সহ তাদের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জেলা সফরের সময় তিনি সরকারি প্রধান কার্যালয় ও রেস্ট হাউসগুলোকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তাগিদ দিয়েছেন।

এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারের একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে। নির্দিষ্ট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে সর্বোচ্চ কত ব্যয় হবে, তার একটি বিস্তারিত হিসাব তৈরি করা হয়েছে। একই সাথে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য দুই থেকে চার ঘণ্টার ব্যাকআপ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যাটারির খরচও নির্ধারণ করা হয়েছে।

মীর শাহে আলম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ২০ বছরের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করা হবে। এই চুক্তির আওতায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রক্ষণাবেক্ষণ সেবা প্রদান করবে। ব্যবস্থায় কোনো কারিগরি ত্রুটি বা সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধান করার দায়িত্বও থাকবে ওইসব প্রতিষ্ঠানের ওপর। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিনামূল্যে ‘নেট মিটারিং’ সুবিধা প্রদান করবে। এর ফলে সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর, যদি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, তবে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।