লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) আবারও নিজের পুরনো বিধ্বংসী স্বরূপে ফিরে এলেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তার দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে ক্যান্ডি রয়্যালসের বিপক্ষে ২১ রানের একটি রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে জাফানা কিংস। ব্যাট হাতে অপরাজিত ২২ রানের পাশাপাশি বল হাতে ৩ উইকেট শিকার করে দলের এই জয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বাংলাদেশের এই তারকা ক্রিকেটার।

বৃহস্পতিবার পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেটে ২২১ রানের একটি বিশাল পাহাড় গড়ে জাফানা কিংস। দলের হয়ে ওপেনার কামিল মিশ্র ২৬ বলে ৪৯ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। চার নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে তাওহীদ হৃদয়ও ১৬ বলে ২১ রান করে দলের সংগ্রহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করেন। তবে সাকিবের ব্যাট থেকে আসে অত্যন্ত কার্যকর অবদান; তিনি মাত্র ১৬ বলে ১টি চার ও ১টি ছক্কায় অপরাজিত ২২ রানের ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে, ১৫ বলে ৪৩ রান করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন চামিন্দু বিক্রমাসিংহে।

বোলিংয়েও সমান কার্যকর ছিলেন সাকিব আল হাসান। জাফানা অধিনায়ক ভানুকা রাজাপাক্ষে ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই তাকে বল হাতে দায়িত্ব দেন। নিজের প্রথম ওভারেই ক্যান্ডি ওপেনার লাহিরু ইগালাগামাগেকে সাজঘরে ফেরত পাঠান তিনি। এরপর দ্বিতীয় ওভারে কুশল পেরেরাকে আউট করে ক্যান্ডি রয়্যালসের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন। তবে চরম উত্তেজনা তৈরি হয় সাকিবের স্পেলের শেষ ওভারে। সেখানে ক্যান্ডি অধিনায়ক ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা তাকে তিনটি বিশাল ছক্কা মারলেও, শেষ বলে হাসারাঙ্গার উইকেট তুলে নিতে সক্ষম হন সাকিব।

শেষ পর্যন্ত ২০০ রানেই থেমে যায় ক্যান্ডি রয়্যালসের ইনিংস। ৪ ওভারে ৪৩ রান খরচ করে ৩ উইকেট নিলেও এলপিএলে এটিই সাকিবের ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার হিসেবে গণ্য হবে। উল্লেখ্য, ২০২৩ আসরে তার সেরা বোলিং ছিল ১০ রানে ২ উইকেট। চলতি আসরের প্রথম ম্যাচেও ১২ রানে ২ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ব্যাটিংয়ে গত ৫ ম্যাচে দুইবার সুযোগ পেয়ে একটিতে অপরাজিত ১০ রান করা সাকিব অন্য ম্যাচে প্রথম বলে আউট হয়েছিলেন।