রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এক হাজতির জন্য আনা পাউরুটির ভেতর থেকে ৩ পুরিয়া গাঁজা ও ৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় প্রবেশের সময় তল্লাশিকালে এই মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত হাজতি আসামি মামুনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ রোববার আসামি মামুনকে সিএমএম আদালতের ১১ নম্বর আদালতে নিয়মিত হাজিরার জন্য আনা হয়েছিল। আদালতের শুনানি শেষ হওয়ার পর তাকে পুনরায় হাজতখানায় ফিরিয়ে নেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত তার এক স্বজন তাকে খাবার হিসেবে একটি পাউরুটি দেন। নিয়ম অনুযায়ী হাজতখানায় প্রবেশের আগে যথাযথ তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত হাজত ইনচার্জের সন্দেহ হলে তিনি পাউরুটিটি নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করেন। এই পরীক্ষার সময় পাউরুটির ভেতরে কাগজে মোড়ানো তিনটি ছোট গাঁজার পুরিয়া এবং তিনটি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
এই ঘটনার বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কনস্টেবল শাহেদ জানান, ‘আমি ১১ নম্বর আদালত থেকে মামুন নামের আসামিকে হাজতখানায় নিয়ে যাচ্ছিলাম। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ রয়েছে যে, কোনো ধরনের খাবার, প্যাকেট বা অন্য কোনো বস্তু হাজতখানার ভেতরে নেওয়া যাবে না। নিয়ম অনুযায়ী আমরা সাধারণত এসব গ্রহণ করি না। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে স্বজনদের দেওয়া পাউরুটিটি আসামিকে সাথে নিতে দিই। পরবর্তীতে হাজতখানার গেটে দায়িত্বরত সদস্যরা সেটি নিয়ে তল্লাশি করেন এবং মাদক উদ্ধারের বিষয়টি সামনে আসে। আমি আসামিকে বুঝিয়ে দিয়ে আমার ডিউটিতে ফিরে যাই। এরপরই আমি মাদক উদ্ধারের কথা জানতে পারি। এর বাইরে বিস্তারিত কিছু আমার জানা নেই।’
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল জানান, ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে কে এই মাদকযুক্ত খাবারটি আসামিকে দিয়েছেন, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের প্রয়োজনে হাজতি মামুনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই ঘটনার সাথে জড়িত সকল ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।











