কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মুফতি আমির হামজার গাড়িতে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের ব্যস্ততম ৬ রাস্তার মোড়ে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই হামলায় এমপির গাড়ির কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। গাড়ির সামনে বসা এমপির চাচার পা মারাত্মকভাবে কেটে যায় এবং মুফতি আমির হামজা নিজেও মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। শুধু গাড়িতে হামলা নয়, বিক্ষোভ মিছিল থেকে এমপির বাসভবনেও ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে মুফতি আমির হামজার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে কুষ্টিয়া শহরের ৬ রাস্তার মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিল গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। ঠিক সেই মুহূর্তেই আমির হামজার গাড়িটি ওই মোড়ে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের ফলে জামায়াতে ইসলামীর ৭ জন এবং গণঅধিকার পরিষদের ৩ জন আহত হন। আহতদের দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, মুফতি আমির হামজা গণঅধিকার পরিষদ সম্পর্কে অত্যন্ত তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এমপি বলেছিলেন যে এই দলটি মাত্র দুজনের, এদের আর কোনো লোক নেই। এই অপমানজনক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতেই তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিল কর্মসূচি ছিল।

অন্যদিকে, সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা এই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন এলাকায় একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। আগামী ২০ তারিখে মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি স্থানীয় রাস্তাঘাট ও কালভার্টের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। সেই সময় তিনি জানতে পারেন যে, তার বাবা-মাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলা হচ্ছে এবং গালাগালি করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি সদর থানার ওসিকে বিষয়টি জানান। ওসি-র গাড়ি সামনে এবং এমপির গাড়ি পেছনে থাকা অবস্থায় হঠাৎ লাঠি ও হকিস্টিক দিয়ে তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতেই তার এবং তার চাচার আঘাত পাওয়ার ঘটনা ঘটে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, গণঅধিকার পরিষদের আব্দুল খালেক ও তৌকিরের নেতৃত্বে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে এবং তিনি এই বিষয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিয়ে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমপির বাসভবনসহ আশপাশের স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।