সাধন সাহা জয়

​কাগজে-কলমে নাম দেওয়া হয়েছে ‘দেবগ্রাম আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন পরিচালনা কমিটি’। গ্রামের যাবতীয় উন্নয়ন কাজ ও সামাজিক বিষয় পরিচালনার জন্য এই সভাপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এর নেপথ্যের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। মূলত আসন্ন পৌর নির্বাচনে গ্রামের একক প্রার্থী ও মেয়র পদ নিশ্চিত করতে ঐক্যের ভোটগ্রহণ করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার দেবগ্রামের মানুষ।

​দীর্ঘ প্রায় ছয় মাসের চেষ্টার পর শনিবার দিনব্যাপী এই সভাপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।

আখাউড়ার দেবগ্রাম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গ্রামের ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

​এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতীতে দেবগ্রাম থেকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে একাধিক ব্যক্তি নির্বাচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে নানা কারণে গ্রামের মধ্যে ঐক্য না থাকায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। এসব দিক মাথায় রেখেই এবার গ্রামটি ঐক্য ধরে রাখার ব্যাপারে মরিয়া হয়ে ওঠে।

​গত মে মাস থেকে এই নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়। দেবগ্রাম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দফায় দফায় বৈঠকের পর একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয় এবং তফসিল ঘোষণা শেষে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে তিন জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—শেখ আমজাদ হোসেন বাবু, মো. ফয়েজ আহমেদ এবং রুহুল আমিন খান সুমন।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের এক ভোটার জানান, কাগজে-কলমে এটিকে সামাজিক উন্নয়ন কমিটির নির্বাচন বলা হলেও মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচিত সভাপতিকে আসন্ন মেয়র নির্বাচনে গ্রামের একক প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানো এবং শতভাগ ভোট নিশ্চিত করে বিজয়ী করে আনা।

​প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ফয়েজ আহমেদ জানান, গ্রামের সবাই মিলে যে ঐক্যের উদ্যোগ নিয়েছে, তিনি তারই অংশ হিসেবে সভাপতি পদে লড়ছেন এবং জিতলে গ্রামবাসীর প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন। আরেক প্রার্থী আমজাদ হোসেন বাবু জানান, সকাল থেকেই ভোটারদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এবং তিনি জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। প্রার্থী রুহুল আমিন খান বলেন, গ্রামের ঐক্যের স্বার্থেই সবাই একমত হয়ে এই ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছেন।