প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এখন তাদের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন দেখতে চায়। তারা প্রত্যাশা করে, প্রিয় মাতৃভূমি যেন পৃথিবীর বুকে সম্মানের সাথে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়। তবে এই অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হলে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে দক্ষ কর্মী ও শ্রমিকের শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এই কথাগুলো বলেন। অনুষ্ঠানে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মাঝে চেক বিতরণ করা হয় এবং বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক উদার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অন্য কোনো রাজনৈতিক দল যদি সরকারের চেয়ে অধিক কার্যকর ও উন্নত পরিকল্পনা দিতে পারে, তবে তা সানন্দে গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেবল জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য অপপ্রচার চালানো হলে, তাদের জনগণের কাছেই ক্ষমা চাইতে হবে। তাঁর মতে, একজন প্রকৃত রাজনীতিবিদের কাজ জনগণকে বিভ্রান্ত করা নয়, বরং তাদের ধৈর্য শেখানো এবং সঠিক পথ প্রদর্শন করা।
‘দেশে বিশৃঙ্খলার রাজনীতির দিন শেষ’—এমন মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, মিথ্যাচার ও অরাজকতার রাজনীতি স্বৈরাচারী সরকার দীর্ঘকাল ধরে চালিয়ে গেছে। বর্তমান রাজনীতিবিদরা জনগণের সামনে উন্নয়নের প্রতিজ্ঞা করেছেন। তাই হঠকারিতা ও বিভ্রান্তির পথ পরিহার করে জনমানুষের কল্যাণে কার্যকর পরিকল্পনা উপস্থাপন করার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাঙচুর করার রাজনীতির দিন এখন নেই এবং সাধারণ জনগণ আর এই ধরনের রাজনীতি সমর্থন করে না।
ঢাকা-১৭ আসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর প্রতিনিধিরা সেখানে জনগণের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করছেন। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, পাশের লেকটি পরিষ্কার করার মতো সহজ মনে হওয়া কাজ করতেও দীর্ঘ ছয় মাস সময় লাগে। সমালোচনা করা সহজ, কিন্তু কাজ করা কঠিন। তাই যারা শুধু সমালোচনায় ব্যস্ত আছেন, তাদের এখনই মাঠে নেমে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার এবং সঠিক কথা বলার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে দেশে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এমন কথা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই করে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে টিকে আছেন। যারা আজ বড় গলায় কথা বলছে এবং মিথ্যাচার করছে, গত ১৭ বছর তাদের রাজপথে দেখা যায়নি। দেশের বড় পত্রিকাগুলোর পাতায় চোখ বুলালেই দেখা যাবে, কীভাবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন, গুম, হত্যাসহ পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছিল।
একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, তারা '৭১ সালে ভুল করেছে, '৮৬ সালে ভুল করেছে, '৯৬ সালে ভুল করেছে এবং ২০২৬ সালেও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি তাদের উসকানির রাজনীতি ছেড়ে মানুষের উপকারের পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণের সামনে সঠিক পরিকল্পনা তুলে ধরলে আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি আবদুর রহমান সানী।










