স্টাফ রিপোর্টার
আসন্ন কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কামসাইর এলাকায় চতুর্থ দফায় অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা, মতবিনিময় ও নির্বাচনী প্রচারণা। সভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে আলহাজ্ব সেলিম আহমেদকে চেয়ারম্যান প্রার্থী করার জোর দাবি জানানো হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সেলিম আহমেদ দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। কায়েতপাড়ার উন্নয়ন ও মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে তার মতো অভিজ্ঞ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন। এ কারণে আসন্ন নির্বাচনে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান তারা।
বিএনপি নেতা তাজমুল মিয়া বলেন, তারা বিএনপির রাজনীতি করেন এবং দলীয় মনোনয়ন যিনি পাবেন, তাকেই ভোট দেবেন। মহিলা নেত্রী মিনু বেগম বলেন, সেলিম আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিকে ধরে রেখেছেন। তিনি একজন ত্যাগী ও সংগ্রামী নেতা। তাই তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান তারা।
বিএনপি নেতা নিয়াজ খান বলেন, ‘যাকে-তাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা যাবে না।’ কায়েতপাড়ার মানুষের স্বার্থ রক্ষায় যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন এবং তার মতে, সেলিম আহমেদ সেই যোগ্য ব্যক্তি।
শ্রমিক দলের নেতা বাদল মাস্টার বলেন, কায়েতপাড়ার মানুষ সেলিম আহমেদকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়। নির্বাচিত হলে তিনি মানুষের পাশে থাকবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সেলিম আহমেদ জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন এবং বিভিন্ন সময়ে দেশে থাকতে পারেননি। তিনি নেতাকর্মীদের দল ত্যাগ না করে বিএনপির প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান।
বিএনপির সিনিয়র সভাপতি মামুন মিয়া সেলিম আহমেদকে একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ উল্লেখ করে বলেন, ছোটবেলা থেকেই তাকে মানুষের পাশে থাকতে দেখেছেন। কায়েতপাড়ার জন্য সেলিম আহমেদের মতো যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন।
যুবদল নেতা কামাল নাসের বলেন, সেলিম আহমেদের পরিচয় নতুন করে তুলে ধরার প্রয়োজন নেই। দলের নেতাকর্মীদের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আলমাস, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি জিন্নাহ, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আলতাফ হোসেনসহ অন্য বক্তারাও সেলিম আহমেদের পক্ষে বক্তব্য দেন। আলতাফ হোসেন তাকে কায়েতপাড়ার ‘বটবৃক্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে ছায়ার মতো রয়েছেন।
বিএনপি নেতা কবির হোসেন বলেন, সেলিম আহমেদ নির্বাচিত হলে জনগণ ২৪ ঘণ্টা তার সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে। কায়েতপাড়ার উন্নয়নেও তিনি কাজ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আবদুল হালিম বলেন, কায়েতপাড়ায় সেলিম আহমেদের চেয়ে যোগ্য ব্যক্তি তারা দেখছেন না। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিধান কৃষ্ণ রায় তাকে সৎ, বিনয়ী ও ভদ্র মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচিত করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক তারা মিয়া বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে সেলিম আহমেদ ইনশাআল্লাহ নির্বাচিত হবেন বলে তারা আশাবাদী। নির্বাচিত হলে ৩ নম্বর ওয়ার্ডসহ কায়েতপাড়ার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা বলেন, ভোটারদের ভোট অত্যন্ত মূল্যবান। সেই মূল্যবান ভোট সৎ, স্বচ্ছ ও আদর্শ ব্যক্তির পক্ষে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়া বলেন, কায়েতপাড়ার উন্নয়নের জন্য সেলিম আহমেদকে নির্বাচিত করা প্রয়োজন। তার মতে, তিনি একজন যোগ্য নেতা ও প্রার্থী।
বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নয়ন বলেন, ছোটবেলা থেকেই সেলিম আহমেদ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তার মতো প্রবীণ ও যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করার জন্য মানুষের কাছে আলাদা করে অনুরোধ করার প্রয়োজন হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় নিজের বক্তব্যে আলহাজ্ব সেলিম আহমেদ বলেন, তিনি মূলত স্থানীয় মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করতেই এখানে এসেছেন। এলাকাবাসী তাকে সমর্থনের বিষয়ে আশ্বস্ত করলে তিনি দলের সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের কাছে মনোনয়নের বিষয়ে কথা বলবেন।
তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কখনো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না। তবে শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।
সেলিম আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কায়েতপাড়ার মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে এবং নিয়মিত তাদের খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হলেও ভবিষ্যতে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মাথা উঁচু করে রাজনীতি করেছি, কারও সঙ্গে লেয়াজু করে চলিনি। আমি কঠোরভাবে বিএনপিকে সমর্থন করি। গ্রামবাসী আমাকে সমর্থন দিলে তাদের সেবা করার সুযোগ পাব।’
মতবিনিময় সভায় কায়েতপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিশিষ্টজন ও বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী অংশ নেন।



















