লক্ষ্মীপুরে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে তীব্র ভাষায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সমালোচনা করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি অভিযোগ করেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তারাই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো 'বেয়াদব' ব্যক্তিত্বদের তৈরি করেছে, যারা বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে অশালীন কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ জুলাই) বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরের এন আহম্মদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জেলা বিএনপির ব্যানারে এই 'জুলাই সমাবেশ' অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের সংখ্যা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও তিনি তা বিশ্বাস করেন না। তার মতে, প্রকৃত বিরোধী দল কেবল একটিই, আর তা হলো জামায়াত-শিবির। তিনি আরও দাবি করেন, সম্প্রতি জাতীয় রাজনীতিতে এনসিপি নামক যে দল এবং নতুন ছাত্র সংগঠনগুলো সৃষ্টি হয়েছে, তারা মূলত জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্বেই একীভূত হয়ে কাজ করছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট শক্তির বিপরীতে মূলত দুটি পক্ষ কাজ করছে। একটি হলো জামায়াত-শিবির এবং অন্যটি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী পক্ষ। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কিছু মানুষ অশালীন ও রুচিহীন ভাষায় কথা বলছে এবং প্রতিনিয়ত তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে উচ্চবাচ্য করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের মানুষ এখন পর্যন্ত ধৈর্য ধরে আছেন, তবে এই ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে।
বিএনপির সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও আদর্শের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি উদারপন্থী ও গণতান্ত্রিক দল হিসেবে। এই দলের নিজস্ব গঠনতন্ত্র এবং কঠোর নিয়মাবলী রয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো যারা অশালীন ও রুচিহীন ভাষায় কথা বলেন, তাদের জন্য বিএনপিতে কোনো স্থান নেই। তিনি আরও জানান, তারেক রহমান এই বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ এবং সতর্ক। দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি ইতিমধ্যে অনেককে বহিষ্কার করেছেন, যা প্রমাণ করে যে এই দলে কোনো অসংলগ্ন আচরণের প্রশ্রয় দেওয়া হয় না।
আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ৫ই আগস্টের পর কিছু মানুষ নিজেদের 'জুলাই যোদ্ধা' হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিল না। বরং তারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে এবং ফ্যাসিস্ট বিরোধী ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করেছে। তিনি ক্ষোভের সাথে প্রশ্ন করেন, ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই যখন লক্ষ্মীপুরে কৃষকদল নেতা সজীবকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল, তখন এই তথাকথিত জুলাই যোদ্ধারা কোথায় ছিলেন? গত ১৭ বছর এবং গত ৩৬ দিনের আন্দোলনে তাদের ভূমিকা ছিল নগণ্য।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী, বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান, নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া, হারুনুর রশিদ বেপারী এবং লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন প্রমুখ।










