গণমাধ্যমকে সমাজের একটি স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য আয়না হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি মনে করেন, সমাজের গভীরে লুকিয়ে থাকা সমস্যা, সম্ভাবনা এবং রূঢ় বাস্তবতার সঠিক প্রতিফলন গণমাধ্যমের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের সামনে উঠে আসে। এই প্রসঙ্গে একটি চমৎকার উপমা ব্যবহার করে তিনি বলেন, মেলা থেকে কেনা সস্তা বা নিম্নমানের আয়নায় যেমন নিজের চেহারা বিকৃত দেখা যায়, ঠিক তেমনি গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশন প্রক্রিয়ায় যেন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি কোনোভাবেই বিকৃত না হয়।

রবিবার বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজের প্রকৃত চিত্র ফুটিয়ে তোলা, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশ করা এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও বিদ্যমান সমস্যার কথা যথাযথভাবে তুলে ধরাই হলো গণমাধ্যমের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণমাধ্যমকে এমন একটি স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রের প্রকৃত রূপটি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে।

তথ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সমাজের বাস্তব চিত্র কোনো ধরনের বিকৃতি, অতিরঞ্জন বা পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। কারণ, খুঁতপূর্ণ বা পক্ষপাতদুষ্ট গণমাধ্যম কখনোই সমাজের প্রকৃত রূপ তুলে ধরতে পারে না। জনগণের দীর্ঘমেয়াদী আস্থা ধরে রাখতে হলে গণমাধ্যমকে অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায়, সংবাদমাধ্যমের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ক্রমেই হ্রাস পাবে, যা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়।

সাংবাদিকদের পেশাগত পরিচয় ও মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, একজন প্রকৃত সাংবাদিককে অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদকর্মী হতে হবে। সংবাদ পরিবেশনে যদি বস্তুনিষ্ঠতার অভাব থাকে, তবে তা সমাজে বিভাজন ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই না করে তাড়াহুড়ো করে সংবাদ প্রকাশ করা হলে শুধু সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকই নন, বরং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরাও জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বেন।

তিনি আরও বলেন, সংবাদ সংগ্রহ এবং তা পরিবেশনের ক্ষেত্রে তথ্যের যথার্থতা যাচাই, সত্যতা নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষের বক্তব্য সমানভাবে তুলে ধরা সাংবাদিকদের অন্যতম প্রধান পেশাগত দায়িত্ব। প্রত্যেক সংবাদকর্মীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা, পেশাদারিত্ব এবং সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের চেয়ে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকেই সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধিদের দেশের মালিক হিসেবে নয়, বরং জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচিত করা হয়। তাই জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আচরণে সর্বদা জনগণের সেবকের মানসিকতা থাকতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ক্ষমতা কোনো ভোগের বিষয় নয়; বরং এটি জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য অর্পিত একটি পবিত্র আমানত।