হাফিজুর রহমান

জলসা তাবুতে স্কাউটসদের সমাপনী অনুষ্ঠানে ক্যাম্প ফায়ারে মুখে রাখা পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগাতে দিয়ে অগ্নিগ্ধ হয়ে আনাস বিল্লাহ নামে দশম শ্রেণীর এক ছাত্র খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এই লোমর্ষক ঘটনাটাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা সহ উপজেলা প্রশাসনকে না জানানোয় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ঘটনাটি জানার পরে ঐ বিদ্যালয়ের স্কাউটস শিক্ষক শাহীনুর রহমান ও শরিফুল ইসলামের নিকট একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বেলা ১০ টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা সদরে অবস্থিত সরকারি কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে। গুরুতর আহত আনাস বিল্লাহ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের পূর্ব নারায়নপুর গ্রামের গাজী জাকিরুল ইসলামের পুত্র ও সরকারি কালীগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র। থানা থেকে ৫০ গজ দূরে এবং উপজেলা পরিষদ থেকে ২,শ গজ দূরে এমন ঘটনা ঘটলেও ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও থানা প্রশাসনকে না জানানোয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিলন কুমার সাহা, এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জয়নাল আবেদীন ও থানার অফিসার্স ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে এ প্রতিনিধিকে জানান। উপজেলা প্রশাসনকে না জানানোর বিষয়টি স্বীকার করে সরকারি কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদেশ কুমারের নিকট জানতে চাইলে এ প্রতিনিধিকে জানান প্রতি বছরের ন্যায় অত্র বিদ্যালয়ের স্কাউটসদের দু'দিনব্যাপী বাৎসরিক তাবু জলসার শুক্রবার ছিল সমাপনী দিন। ঐদিনের ক্যাম্প ফায়ারটি ভিডিও ধারণ করে আকর্ষণীয় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য উপস্থিত স্কাউট,স শিক্ষকদের সামনে শিক্ষার্থী, আনাস বিল্লাহ মুখে পেট্রোল রেখে কাঠের স্তূপে আগুন দিতে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পেট্রোলের আগুনের লেলিহান শিখায় তার মুখমন্ডল পুড়ে ঝলসে যায়। ওই সময় তাৎক্ষণিক ঐ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তাররা অপারগতা প্রকাশ করলে সাথে সাথে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমান সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে চিকিৎসাধীন আছে এবং আশঙ্কা মুক্ত বলে তার পিতা এবং পরিবারের সদস্যরা এ প্রতিনিধিকে জানান। এ প্রসঙ্গে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদেশ কুমারের নিকট জানতে চাইলে তিনি উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি না জানানোর কথা স্বীকার করেন এবং জানান । ঘটনার পর থেকে চিকিৎসার যাবতীয় খরচ স্কুল কর্তৃপক্ষ বহন করছে তিনি জানান। তবে দায়িত্বে অবহেলা এবং নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে কোন সদুত্তর মেলেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিলন কুমার সাহা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব )জয়নাল আবেদীন বিষয়টি সম্পর্কে বলেন প্রথমে আপনার মুখ দিয়ে জানলাম এ বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি আমি খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।