বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন এক আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এখন থেকে এই ধরণের বিশেষ পরিস্থিতি সম্পন্ন সন্তান থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি চাকরিজীবীরা প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে বিশেষ ভাতা পাবেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে প্রকাশিত ‘চাকরি (বেতন-ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শিরোনামের একটি গেজেটের মাধ্যমে এই নতুন সুবিধার কথা জানানো হয়েছে।
প্রকাশিত গেজেটে বলা হয়েছে, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য এই ভাতার সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। অর্থাৎ, যদি কোনো চাকরিজীবীর দুই সন্তানই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হয়, তবে তিনি প্রতি মাসে মোট ছয় হাজার টাকা ভাতা পাবেন। তবে দুইয়ের অধিক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলেও ভাতার পরিমাণ সর্বোচ্চ দুই সন্তানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং এর বেশি কোনো অর্থ প্রদান করা হবে না।
এই ভাতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রাখা হয়েছে; বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য অন্য কোনো সরকারি ভাতা গ্রহণ করা হলে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ, একই উদ্দেশ্যে একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়নি। স্বচ্ছতা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এই ভাতার অর্থ সরাসরি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের মা কিংবা বাবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রদান করা হবে।
নবম পে স্কেলের আওতাভুক্ত প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সোয়া নয় লাখ পেনশনভোগী এই বিশেষ সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে কতজনের সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই। তবে এই তথ্যের ঘাটতি পূরণে এখন থেকে অর্থ বিভাগের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার বা ‘আইবাস’-এ (iBAS) সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই বিশেষ ভাতার ফলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা পরিবারগুলো তাদের সন্তানের চিকিৎসা, মানসম্মত শিক্ষা, প্রয়োজনীয় থেরাপি এবং বিশেষ পরিচর্যায় এই অর্থ ব্যয় করতে পারবেন। এর ফলে অনেক পরিবার আর্থিক দিক থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবেন এবং সন্তানদের মৌলিক যত্ন নিশ্চিত করা সহজ হবে। যদিও এই ভাতা সামগ্রিক ব্যয়ের একটি অংশ মাত্র, তবে এটি পরিবারের বোঝা কিছুটা লাঘব করবে।
তবে এই সুবিধা পেতে হলে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান হিসেবে স্বীকৃতির জন্য কী ধরনের সনদ বা দাপ্তরিক নথি প্রয়োজন এবং ভাতা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারীকে কীভাবে আবেদন করতে হবে, সেই বিস্তারিত নিয়মাবলী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জানানো হবে।



















