গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের ভয়াবহ প্রভাবে দেশের নিটওয়্যার পোশাক খাতের রপ্তানি আদেশে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সাম্প্রতিক এক জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ প্রায় ৫৫ শতাংশ কারখানার রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে অথবা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে পোশাক শিল্পের বর্তমান সংকটের এক করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে।

বিকেএমইএ-র তথ্যমতে, গত জুলাই মাসের ২০ তারিখ থেকে শুরু হওয়া তীব্র গ্যাস সংকট এবং পরবর্তীতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দেশের নিটওয়্যার রপ্তানিকারকদের ৮৭ শতাংশই তাদের শিপমেন্ট সময়মতো সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং বিদেশি বায়ারদের ধরে রাখতে প্রতি তিনজনে প্রায় দুজন সাপ্লায়ার ডিসকাউন্ট দিতে বাধ্য হয়েছেন, যা খাতের সামগ্রিক মুনাফায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

প্রতিবেদনটি তৈরির প্রক্রিয়ায় বিকেএমইএ তাদের সদস্যভুক্ত মোট ৮০০টি সক্রিয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১৬০টি কারখানার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭৫ শতাংশ গ্যাস সংকটের কারণে এবং ৯০ শতাংশ বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছে। বিশেষ করে, আলোচ্য সময়ে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭৮ শতাংশ কম ছিল, যা উৎপাদন প্রক্রিয়াকে প্রায় স্থবির করে দিয়েছে।

জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন সচল রাখতে বিকল্প জ্বালানির পেছনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানাকে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবের কারণে প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানাতেই শ্রমঘণ্টার ব্যাপক অপচয় হয়েছে, যা উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম আশঙ্কায় রয়েছেন উদ্যোক্তারা। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৮৯ শতাংশ কারখানা মালিক জানিয়েছেন, তারা বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। এছাড়া তিন-চতুর্থাংশের বেশি মালিকের উৎপাদন আংশিক বন্ধ হয়ে গেছে। এই সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের ফলে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৬ জন মালিক জানিয়েছেন যে তারা ঋণখেলাপির ঝুঁকিতে পড়েছেন। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, তীব্র সংকটের মুখে ৭ শতাংশ কারখানা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।