নোয়াখালীর কবিরহাটে ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এক ইউনিয়ন সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই কর্মচারীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি আরেক নারীর কাছে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ঘুষ দাবির অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত কর্মচারীর নাম মফিজুর রহমান। তিনি কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নবগ্রাম এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।

তিনি বর্তমানে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতায় নরোত্তমপুর, চাপরাশিরহাট, বাটইয়া ইউনিয়ন ও কবিরহাট পৌরসভা এলাকায় সমাজকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর দুপুরে কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে মফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনিই বলে স্বীকার করেন। তবে কীভাবে ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি ভিন্ন বক্তব্য দেন। মফিজুর রহমানের দাবি, ওই নারী তার পূর্বপরিচিত। একদিন ওই নারী তাকে একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে শরবতের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে খাওয়ান। এরপর কী ঘটেছে, তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওতে মফিজুর রহমানকে এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই নারী বাটইয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে তার সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে অন্য এক নারীকে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগও উঠেছে মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও কথোপকথনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই অডিওতে বিকাশে টাকা দেওয়ার কথা বলা হলে নগদে টাকা পরিশোধ করতে বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে জেনেছে এবং তাকে সতর্ক করা হয়েছে। কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, তিনি এখানে যোগদানের পর বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নোয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জেড এম মিজানুর রহমান খান বলেন, অভিযোগ ও ভাইরাল হওয়া ভিডিওর বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্তে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কাশেমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্য ও সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।