বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো

গাছ লাগানোর বরাদ্দ, অথচ রোপণ করা হয়েছে গাছের ডাল! আর শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক বসে আছেন শিক্ষার্থীর অপেক্ষায়। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগা বড়বাড়ী বালিকা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে একসঙ্গে এমন দুই চিত্রই সামনে এসেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নবম শ্রেণির ২০ শিক্ষার্থীর একজনও উপস্থিত নেই। শিক্ষার্থীদের অপেক্ষায় শ্রেণিকক্ষে বসে ছিলেন সহকারী শিক্ষক খালেদুল ইসলাম।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৮৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে ওই দিন অনুপস্থিত ছিল ৫১ জন। নবম শ্রেণির ২০ জনের সবাই, সপ্তম শ্রেণির ১৬ জনের মধ্যে ১৫ জন, দশম শ্রেণির ২৩ জনের মধ্যে ১৬ জন, ষষ্ঠ শ্রেণির ১৯ জনের মধ্যে ১৩ জন এবং অষ্টম শ্রেণির সাতজনের মধ্যে একজন অনুপস্থিত ছিল।

এমন ব্যাপক অনুপস্থিতির মধ্যেই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে একটি শ্রেণির সব শিক্ষার্থীই অনুপস্থিত থাকার পরও তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বিদ্যালয়ের বৃক্ষরোপণের জন্য ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, গাছের চারার পরিবর্তে গাছের ডাল রোপণ করা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে বৃক্ষরোপণের জন্য বরাদ্দ অর্থে কী ধরনের চারা কেনা হয়েছে, কতটি গাছ রোপণ দেখানো হয়েছে এবং বাস্তবে সেই অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে? বরাদ্দের অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আকমল হোসেন গাছের পরিবর্তে ডাল রোপণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকই ভালো বলতে পারবেন।

এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মো. সহিদার রহমানসহ কয়েকজন শিক্ষক ২৬ ও ২৭ আগস্ট বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক আকমল হোসেন বলেন, সহকারী শিক্ষক সহিদার রহমান ছুটি আবেদন করেন নাই।

অন্যদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. মাসুমা বেগম লিজা বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

বিষয়টি নিয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. ইমরানুজ্জামান সংবাদ কর্মীকে বলেন, ইতোমধ্যেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নের এসব বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।