চীন থেকে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন আমদানির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। রবিবার দুপুরে শেরপুর জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য প্রদান করেন। চীনের বুলেট ট্রেনগুলো ঘণ্টায় প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করে। তবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত প্রেক্ষাপটে এই গতি কিছুটা কম হলেও তা অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের বিমানবন্দর ও আকাশপথের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে মোট আটটি বিমানবন্দর সচল রয়েছে। তবে এর মধ্যে কয়েকটি বিমানবন্দরের অবকাঠামো বেশ ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে, যা দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, দেশের আকাশপথ আরও শক্তিশালী করতে খুব শীঘ্রই বেশ কিছু নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে। দেশের ক্রমবর্ধমান আকাশপথের চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে আগামী ১০ বছরের মধ্যে একটি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ময়মনসিংহ বিভাগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের ফলে যে ধরনের সরকার পলায়ন করেছে, তার কোনো নজির সারা বিশ্বে নেই। কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী কিংবা সংসদ সদস্যসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা একসঙ্গে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ইতিহাসে বিরল। আওয়ামী লীগের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার পুনরায় ফিরে আসার বিষয়ে স্বপ্ন দেখছেন, তা মূলত একটি দুরাশা মাত্র। বরং দলটিকে একটি শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
তিনি দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি এবং ২০২৪ সালে পুনরায় আমাদের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হয়েছে। এই মহান অর্জনের পেছনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে আমাদের নিরলসভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
শেরপুরের স্থানীয় উন্নয়ন ও পর্যটন কেন্দ্রিক কার্যক্রম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ঝিনাইগাতী এলাকায় একটি আধুনিক মোটেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীতে বাঁধ নির্মাণসহ জেলার সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার এ.কে.এম. জহিরুল ইসলাম এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশ। সভায় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মন্ত্রী সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে পৌঁছালে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।















