নিখোঁজ হয়ে ১৮ দিন পার হয়ে গেলেও এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি ২ বছর বয়সী শিশু মোহাম্মদ তোহা আদনানের। গত ২৩ জুলাই সকাল ৯টা নাগাদ দোহারের অরঙ্গবাদ গ্রামে দাদা বাড়ির গেটের সামনে থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয় এই শিশুটি। সেই মুহূর্ত থেকে এখন পর্যন্ত তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি, যা ওই পরিবারের সদস্যদের জন্য চরম উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিশুটির বাবা অভি হোসেন জানান, ঘটনার দিন সকালে আদনান তার মায়ের সাথেই ছিল। মা যখন খাবার আনতে ঘরের ভেতরে যান, তখন খেলতে খেলতে আদনান উঠান পেরিয়ে বাড়ির গেটের বাইরে চলে যায়। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে মা ফিরে এসে দেখেন আদনান সেখানে নেই। চোখের পলকে যেন উধাও হয়ে যায় শিশুটি। জানা গেছে, গত ১০ জুলাই মহররমের ছুটিতে বাবা-মায়ের সাথে অরঙ্গবাদ গ্রামে দাদা বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল আদনান। সেখানে আসার মাত্র ১৩ দিন পরেই সে নিখোঁজ হয়।
পূর্ব শত্রুতার জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বাবা অভি হোসেন বলেন, "আমার সাথে কারও কোনো শত্রুতা নেই, তাই কাউকে সন্দেহ করার মতো কারণও পাচ্ছি না।" তবে তিনি জানান, বাড়ির সামনের নদীর ঘাটে এক ব্যক্তি ওই সময়ে একটি অটো রিকশায় বোরকা পরিহিত তিন নারীকে যেতে দেখেছেন। তবে সেই অটোতে কোনো শিশু ছিল কি না, সে বিষয়ে ওই ব্যক্তি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
একমাত্র সন্তান আদনানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছেন বাবা অভি হোসেন ও মা তোহরা ইসলাম। দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটছে এই দম্পতির। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় তারা এখনো বুক বেঁধে আছেন, যদিও দিন যত যাচ্ছে, পুলিশের কাছ থেকে কোনো সদর্থক তথ্য না পাওয়ায় তাদের সেই আশা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ এই বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না।
ঘটনার পরপরই দোহার পুলিশ ফারিটিতে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) আরিফুর রহমান জানান, প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী শিশুটি নদীতে পড়ে যেতে পারে। এই সম্ভাবনা মাথায় রেখে নৌকা দিয়ে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হলেও আদনানের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তিনি জানান, নিখোঁজ শিশুটির বিষয়ে আশপাশের অন্যান্য থানাগুলোতে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও জানান, এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার স্বল্পতার কারণে আদনানের খোঁজ পেতে বেগ পেতে হচ্ছে। আরিফুর রহমানের দাবি, বাসা থেকে দূরে কয়েকটি জায়গায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়েছে, কিন্তু সেগুলো ডাউনলোড করার জন্য তিনি পরিবারকে অনুরোধ করেছেন। তার মতে, একজন অপারেটরকে ১ থেকে ২ হাজার টাকা দিলে ফুটেজগুলো পাওয়া সম্ভব। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা পুলিশের দায়িত্ব হয়ে থাকার কথা। পুলিশ কেন পরিবারকে টাকা দিয়ে ফুটেজ সংগ্রহের কথা বলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার জবাব, দোহারে এটি একটি পুলিশ ফাড়ি এবং সেখানে কোনো কম্পিউটার অপারেটর নেই, তাই পরিবারের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আদনানের বাবা অভি হোসেন জানান, তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সবশেষ দুইবার ফোন করেছিলেন। একবার তিনি জানান যে তিনি ঢাকায় আছেন, আর অন্যবার অন্য কোনো সময়ের কথা বলেন। পুলিশের এমন উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ পরিবার এখন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছে। তারা আকুল আবেদন জানিয়েছেন, কেউ যদি শিশুটির কোনো খোঁজ পান, তবে দয়া করে নিচের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য। যোগাযোগ নম্বর: ০১৯৮৭৮৮২৫৭৫।









