আবু নাঈম রিপন

নরসিংদীর শিবপুরে এক বিধবা নারীকে সং'ঘ'ব'দ্ধ ধ'র্ষ'ণ, ছি'নতাই ও জো'রপূর্ব'ক আ'টকে রাখার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই মামলায় এজাহারভুক্ত আরও দুই আসামি এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট সন্ধ্যায় পূর্বপরিচিত হুমায়ূন খান ওই নারীকে শিমুলিয়া বাজার থেকে শিবপুর থানাধীন শিমুলিয়া এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি ছু'রির ভ'য় দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তাকে জো'রপূ'র্ব'ক ধ'র্ষ'ণ করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে ওই নারীকে জো'রপূ'র্বক একটি কলাবাগানে নিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর মনোহরদী থানাধীন দৌলতপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত মুরগির খামারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে পালাক্রমে ধ'র্ষ'ণ করেন এবং আরও কয়েকজন বাইরে পাহারায় ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরদিন ২৫ আগস্ট ভুক্তভোগী শিবপুর থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার অভিযোগের ভিত্তিতে শিবপুর মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় শিবপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নি'র্যা'তন দ'মন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর-৪৪, তারিখ ২৬ আগস্ট ২০২৬। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন—এজাহারের ১ নম্বর আসামি মো. শাকিল মিয়া (২৫), পিতা-মৃত সাফিজ উদ্দিন, মাতা-মদিনা বেগম, সাং-দৌলতপুর (গুলজার মার্কেট),২ নম্বর আসামি ফাহিম ওরফে উজ্জল (১৯), পিতা-জামাল উদ্দিন, মাতা-রাশিদা বেগম, সাং-দৌলতপুর, ৫ নম্বর আসামি হুমায়ূন খান (৪০), পিতা-মৃত আব্দুল খান, মাতা-ফজিলা বেগম, সাং-দৌলতপুর এবং ৬নং আসামী জাকির হোসেন (৫৩), পিতা-মৃত আলিম উদ্দিন, মাতা-রহিজা বেগম, সাং-দৌলতপুর। এজাহারে উল্লেখিত এসব আসামির ঠিকানা নরসিংদীর মনোহরদী থানাধীন দৌলতপুর এলাকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে অপর দুই আসামি হিসেবে মিনহাজ (২৪) পিতা-মৃত লিয়াকত আলী, মাতা-হেনা বেগম, সাং-দৌলতপুর ও শ্রাবন (১৮), পিতা-কাজী আজাদ মিয়া, সাং-দৌলতপুর; হুমায়ূন খান (৪৩), পিতা-মৃত আব্দুল খান, মাতা-ফজিলা বেগম, সাং-দৌলতপুর মনোহরদী-এর নাম রয়েছে। তাদের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এজাহারভুক্ত অপর দুই আসামি ও অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শিবপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কোহিনুর মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামি ও অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।”

তিনি আরও জানান, মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বুধবার গ্রেপ্তার চার আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।