রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর তহবিলের অর্থ উত্তোলনে বড় ধরনের গরমিল সামনে এসেছে। রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ মোট ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৩২৪ টাকা উত্তোলন করলেও তার বিপরীতে জমা দিয়েছেন মাত্র ৯৯ হাজার ৯২৪ টাকার বিল-ভাউচার। ফলে ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকার কোনো হিসাব এখন পর্যন্ত জমা দেওয়া হয়নি। রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের ব্যয়ের বিবরণীসংক্রান্ত নথিপত্র বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
নথি অনুযায়ী, ভিপি জাহিদের নামে মোট ছয়টি ধাপে এই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঈদুল আজহা উপলক্ষে আয়োজিত একটি কর্মসূচির জন্য ব্যয় করা ৯৯ হাজার ৯২৪ টাকার ভাউচার জমা থাকলেও, বাকি বিপুল পরিমাণ অর্থের কোনো হিসাব নথিতে পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত তথ্যে দেখা যায়, গত ১৩ এপ্রিল দাপ্তরিক খরচের নামে দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করেন ভিপি জাহিদ। তবে সেই অর্থের কোনো হিসাব জমা না দিয়েই ১৯ জুলাই পুনরায় দাপ্তরিক খরচের জন্য আরও দুই লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়।
এ ছাড়া গত ৩ আগস্ট ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা প্রদর্শনের জন্য তিন লাখ ৮২ হাজার ৪০০ টাকা এবং একই দিনে ‘ভিক্টরি রান উইথ রাকসু’ কর্মসূচির জন্য তিন লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। পরবর্তীতে ৬ আগস্ট ‘জুলাই জাদুঘর’ স্থাপনের কাজে আরও দুই লাখ আট হাজার টাকা নেওয়া হয়। এই সবকটি কর্মসূচির ব্যয়ের কোনো বিল-ভাউচার এখন পর্যন্ত জমা পড়েনি। এর বাইরে বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য নেওয়া অর্থেরও হিসাব জমা না পড়ায় মোট বকেয়া বিল-ভাউচারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকায়।
এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ দাবি করেন যে, সব বিল জমা দেওয়া হয়নি এমন কথা সঠিক নয়। তিনি বলেন, “একেবারে কোনো বিল জমা দেওয়া হয়নি বিষয়টি এমন নয়। বিল-ভাউচার দ্রুত জমা দেওয়া অবশ্যই ভালো, তবে আমার মেয়াদের মধ্যে জমা দিলেও চলবে। আমাদের মেয়াদের এখনো ৬০ দিন বাকি রয়েছে।” তিনি আরও আশ্বস্ত করে বলেন, “মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অডিট সম্পন্ন হবে এবং তার আগেই আমরা সব বিল-ভাউচার জমা দিয়ে দেব। যদি কারো বিল-ভাউচারে কোনো গড়মিল থাকে, তবে প্রয়োজনে আমি পকেটের টাকা দিয়ে তা পূরণ করব।”
অন্যদিকে, রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান এই বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, “যেকোনো কর্মসূচি শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তার বিল-ভাউচার জমা দেওয়া নিয়ম। রাকসুর কিছু বিল-ভাউচার এখনো জমা হয়নি, আমরা তাদের সঠিক নিয়মে তা দ্রুত জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।”
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং রাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, “যেকোনো কর্মসূচি আয়োজনের পর অবিলম্বে বিল-ভাউচারসহ আর্থিক হিসাব জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। রাকসুর প্রতিটি অধিবেশনে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য আমি কোষাধ্যক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি। তবে কেন এখনো সবগুলো ভাউচার জমা পড়েনি, সে সম্পর্কে আমি বিস্তারিত অবগত নই। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই যথাযথ বিল-ভাউচার জমা দিতে হবে এবং রাকসুকেও এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।










