রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উষ্ণ অভিনন্দন ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য এবং আগামী দিনগুলোতে তার সফল নেতৃত্ব কামনা করে অলি আহমদ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) প্রকাশিত সেই বিবৃতিতে অলি আহমদ বলেন, ‘দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় আমরা উভয়েই দীর্ঘ সময় একসঙ্গে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছি। আমাদের এই দীর্ঘ সহযাত্রায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা রক্ষা, সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে আমাদের বিশ্বাস ও অঙ্গীকার সবসময়ই অভিন্ন ছিল।’

দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের পর থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন থেকেছে। এর ফলে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে বিকল্প নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি জাতীয় সংসদ ও সাধারণ জনগণের সামনে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবারের নির্বাচনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ায় অন্তত সেই সীমাবদ্ধতা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পেরেছি।’

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে অলি আহমদ আরও বলেন, ‘১১ দলীয় ঐক্য আমাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করার মাধ্যমে এই গণতান্ত্রিক পরিসর সৃষ্টিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর জন্য আমি জোটের সকল নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

তিনি মনে করেন, এবারের এই নির্বাচনী লড়াই ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতাসীন দলের সিদ্ধান্তের একটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদনে সীমাবদ্ধ না রাখার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অলি আহমদের মতে, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের সিদ্ধান্ত এবং তার ফলাফল কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা পুরো দেশ ও সাধারণ জনগণের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। সময়ের সাথে সাথে ইতিহাসও সংশ্লিষ্ট সকলের ভূমিকা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবে।

জাতীয় জীবনের এই সন্ধিক্ষণে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনার প্রতিটি সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং সাধারণ জনগণের আস্থার ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। তাই ব্যক্তি, দল কিংবা গোষ্ঠীগত সংকীর্ণ বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে দেশ ও সাধারণ নাগরিকদের বৃহত্তর স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন—এই প্রত্যাশা রাখি।’

বিশেষ করে, গণভোটে জনগণ রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে যে রায় প্রদান করেছে, তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সংলাপের প্রশ্নে রাষ্ট্রপতির নিরপেক্ষ ও সক্রিয় অবস্থান দেশবাসী গভীরভাবে প্রত্যাশা করে।

নির্বাচন শেষ হলেও লড়াই শেষ হয়নি বলে মনে করেন অলি আহমদ। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হলেও জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সংগ্রাম শেষ হয় না। রাষ্ট্রীয় পদ বা নির্বাচনী ফলাফলের ঊর্ধ্বে দেশ ও জনগণের প্রতি আমার দীর্ঘদিনের যে অঙ্গীকার, তা ভবিষ্যতেও অবিচল থাকবে।’

পরিশেষে অলি আহমদ বলেন, ‘আপনার দায়িত্ব পালন হোক সততা, নিরপেক্ষতা, ন্যায়বোধ এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের সাথে। আপনি সমগ্র জাতির ঐক্য, মর্যাদা এবং আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন—এই প্রত্যাশা রাখি। আপনার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি। মহান আল্লাহ আপনার এই গুরুদায়িত্ব পালনে সহায় হোন।’