ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংসদ ভবনে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পানি সম্পদ খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন, বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।

বৈঠকের শুরুতেই কমিটির সদস্যদের সাথে পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সরকারের গত ছয় মাসের কার্যক্রম এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। বৈঠকে জানানো হয়, নদীভাঙন রোধে সরকার এখন থেকে আরও আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করছে, যাতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। এর পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও তীরের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি। কমিটির সদস্যদের অবহিত করা হয় যে, বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি ইতিমধ্যে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়েছে। এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেশের কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি এবং জোরালো আশ্বাসের কথা জানানো হয়। পাশাপাশি, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হিসেবে আগামী বছর থেকে বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানানো হয়, যা উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সভায় প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান উন্নয়ন উদ্যোগ, প্রকল্পের বাস্তবায়ন সময়সীমা এবং অর্থ বরাদ্দের সুনির্দিষ্ট চিত্র উপস্থাপন করা হয়। বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট ৯৩টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে এসব প্রকল্পের জন্য মোট ৭ হাজার ৮৩২ দশমিক ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা জানানো হয়। বৈঠকে প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তালিকা উপস্থাপন করে সদস্যদের জানানো হয় যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা এবং বরাদ্দের সঠিক ও সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সেবার মানোন্নয়নে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও জোরালো ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দেওয়া হয়।

এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ. কে. এম. ফজলুল হক মিলন, এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবু, আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ্ ফরিদ, মুন্সী রফিকুল আলম, মো. ইজ্জত উল্লাহ্, মো. মশিউর রহমান খান এবং মো. অলি উল্লাহ্। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, আওতাধীন সকল সংস্থার প্রধান, বিভিন্ন দপ্তরের মহাপরিচালক এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।