বিএনপি-র অঙ্গসংগঠন যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে পদবঞ্চিত ও যোগ্য নেতাদের পুনরায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমেছেন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক নেতৃবৃন্দ। গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে এক তাৎক্ষণিক ও সংহতিপূর্ণ মানববন্ধনের মাধ্যমে তারা তাদের তীব্র ক্ষোভ এবং ন্যায্য দাবি ব্যক্ত করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী নেতারা অভিযোগ করেন যে, গত ৪ জুন ঘোষিত ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে এমন অনেক নেতাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন এবং দলের আদর্শ রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বিশেষ করে যারা ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে মামলা, জেল-জুলুম এবং চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

তাদের অভিযোগ, যোগ্য, ত্যাগী ও অভিজ্ঞ নেতাদের পরিবর্তে কমিটিতে এমন কিছু ব্যক্তিকে স্থান দেওয়া হয়েছে যারা রাজনীতিতে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়, অপরিচিত এবং বিতর্কিত। পদবঞ্চিত নেতারা এই কমিটি গঠন প্রক্রিয়াকে ‘বিশেষ মহলের পকেট কমিটি’ এবং একটি ‘প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানান। তারা স্পষ্টভাবে বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং রাজপথে লড়াই করেছেন, তাদের উপেক্ষা করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া দলের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে এবং কর্মীদের মনোবল কমিয়ে দিতে পারে।

শুধু তাই নয়, মানববন্ধনে উপস্থিত নেতারা আরও গুরুতর অভিযোগ করেন যে, বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই মতপার্থক্য একপর্যায়ে তুমুল বাকবিতণ্ডা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক বাক্যবিনিময়ে রূপ নিয়েছে, যা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশকে আরও বিষিয়ে তুলেছে।

এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, হুমায়ুন কবির, সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল এবং জাকির হোসেন খান। তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক গ্রামবিষয়ক সম্পাদক রিয়ন তালুকদার, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান ও মাহফুজুর রহমান মাহফুজ। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সহসভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ মাসুদ এবং সাবেক সহক্রীড়া সম্পাদক আমান উল্লাহ বিপুল এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহস্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক বাছেদুর রহমান সোহেল, ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আযম সেকত এবং সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক পাটোয়ারী তাদের দাবির পক্ষে কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া হল শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন ইমন ও সাবেক সদস্য মাসুদ আহমেদ এবং যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শরীফ আল ফরহাদ দিপু, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন শাহীন, সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক কাজী মেজবাউল আলম, মুজাহিদুল ইসলাম ও আনোয়ার জাহিদ এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেন।

সাবেক নেতৃবৃন্দের তালিকায় আরও ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফ, সুমন চৌধুরী, সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ সরকার, সবুর খান সাগর এবং সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রোকন। এছাড়া সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক নীরব, সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক বেসরকারিবিষয়ক সম্পাদক ইয়াকুব রাজু, সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আযম এবং সাবেক জলবায়ুবিষয়ক সম্পাদক স্বপন কুমার মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচিতে আরও অংশ নেন সাবেক সহক্রীড়া সম্পাদক রবিউল হাসান আরিফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি নজরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্বজিৎ ভদ্র, ফরিদ খান এবং সাবেক সদস্য মহিবুল্লাহ জয়। সাবেক ছাত্রনেতা সেলিম রেজা, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক আজিম উদ্দিন মিরাজ এবং সাবেক সদস্য এম কামরুল ইসলাম এই মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হলের সিনিয়র সহসভাপতি খসরু আহমেদ হিরন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর অনুষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ তাদের সংহতি জানান।

পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা খন্দকার আমিনুল হক আকন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহক্রীড়া সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম মাসুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী শোভন এবং সাবেক যুবদল নেতা মাইন উদ্দিন বেগ সুজন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা নজরুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা এমদাদুল হক পারভেজ, জাহিদুল ইসলাম হিরন, আমির হোসেন বাদশা, সাবেক যুবদল নেতা মাহমুদ খান, ঢাকা মহানগর পূর্বের সাবেক ছাত্রনেতা দুলাল মাতব্বর, সাবেক ছাত্রনেতা মাসুদ রানা ও মানিক হোসেন এই কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের দাবি ব্যক্ত করেন।

মানববন্ধনের শেষে নেতারা দাবি করেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির গঠন প্রক্রিয়া পুনরায় পর্যালোচনা করে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে। অন্যথায়, রাজপথের সক্রিয় কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়বে বলে তারা সতর্ক করেন।