গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেন, অবিলম্বে গণভোটের রায় কার্যকর করার পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে কোনো সরকারই দীর্ঘদিন জনসমর্থন ধরে রাখতে পারে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে তা সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী হবে।
রোববার বিকেলে সিলেটের রেজিস্টারি মাঠে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে মামুনুল হক আরও বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির সংকটে শিল্পকারখানা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। এ সংকট দ্রুত নিরসনে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করা হলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা হবে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে এবং প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার পথ সুগম হবে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো ব্যক্তি বা দলের অনুগত না রেখে জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালনা করতে হবে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্বের ভারসাম্য, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, নিরপেক্ষ প্রশাসন ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি। জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ থেকে মুক্ত করার তাগিদ দেন তিনি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার দেওয়া, যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান মামুনুল হক। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণের মৌলিক অধিকার ও ন্যায্য দাবি আদায়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর সভাপতি আলহাজ মাওলানা এমরান আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল গাফফারের সঞ্চালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহিনূর পাশা চৌধুরী, ময়মনসিংহ-২ আসনের এমপি মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ, শায়খ মাওলানা আব্দুস সোবহান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা আব্দুল আজিজ, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, মাওলানা মুহসিনুল হাসান, মাওলানা সামীউর রহমান মুসা, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, আলহাজ মাওলানা আতাউর রহমান, প্রিন্সিপাল পীর মাওলানা আব্দুল জব্বার, মাওলানা মুহিবুর রহমান ও মুফতি আলী আহমদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।





















