বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং-২০২৬’ এর সফল সমাপ্তি
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক আর্মি কমান্ডের যৌথ অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিশেষ সামরিক মহড়া ‘অনুশীলন টাইগার লাইটনিং (টিএল)-২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠান অত্যন্ত সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাসে এই মর্যাদাপূর্ণ সমাপনী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হুমায়ুন কবীর। গত ১৯ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ মহড়াটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিক ও ওরেগন ন্যাশনাল গার্ডের যৌথ অংশগ্রহণে পরিচালিত হয়।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা বিধান, সন্ত্রাস দমন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সহযোগিতা বিদ্যমান। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেকোনো বৈশ্বিক হুমকি মোকাবিলায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ এবং এই লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমবেতভাবে কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, কৌশলগত যৌথ অভিযানিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রস্তুতি আরও জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে এই ‘টাইগার লাইটনিং’ অনুশীলনটি পরিচালনা করা হয়।
এই বিশেষ অনুশীলনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিক ও ওরেগন ন্যাশনাল গার্ডের ৮৮ জন সদস্য এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড ও বিভিন্ন ফরমেশনের বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞসহ মোট ৯২ জন সদস্য সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘ ১০ দিনের এই প্রশিক্ষণে উভয় দেশের সেনাসদস্যরা আধুনিক রণকৌশল এবং বিশেষায়িত সামরিক দক্ষতার বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক সদস্যকে মহড়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করার স্বীকৃতিস্বরূপ সার্টিফিকেট প্রদান করেন। পাশাপাশি স্মারক হিসেবে প্রত্যেককে বিশেষ ইনসিগনিয়া প্রদান করা হয়। এই অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, সেনাসদর, সিলেট অঞ্চলসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আইএসপিআর-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের যৌথ অনুশীলন অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে এটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও গভীর করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।










