ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির জন্যও প্রয়োজনীয় আবেদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নিশ্চিত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার জবাবে আরও উল্লেখ করেন যে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিদেশে পলাতক অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জোরদার করা হয়েছে।
সরকারের এই তৎপরতার অংশ হিসেবে গত ৬ মে হত্যা মামলার আসামি এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত মো. আরিফ সরকারকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এবং ২৭ মে অপর একটি হত্যা মামলার আসামি মোবারক মণ্ডলকে কাতার থেকে সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১২ জুন তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে আবুধাবির ইন্টারপোল এনসিবি থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ১৬ জুন কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রস্তাব পাঠানো হয়। যেহেতু বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোনো দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, তাই পারস্পরিকতার নীতির আওতায় আমিরাত সরকার সহযোগিতার নিশ্চয়তা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে ৪ আগস্ট প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র পাঠানো হয়েছে এবং আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে একটি দক্ষ ল’ ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে যাতে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়।
এছাড়া মানব পাচার মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত পলাতক মোল্লা নজরুল ইসলামকে সম্প্রতি লিবিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে গত ১৬ মার্চ প্রত্যর্পণ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
পরিশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইন্টারপোল, বিভিন্ন বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলোর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখা হয়েছে। অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং দ্রুততম সময়ে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের এই নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।















