বিরোধী দলের অনবরত আন্দোলনের ফলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য চরম ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলো একদিকে লংমার্চের ডাক দিচ্ছে, অন্যদিকে আন্দোলনের কথা বলছে। বাংলাদেশ যদি কেবল আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে, তবে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন সম্ভব হবে না। এই ধরনের আন্দোলন স্থানীয় এলাকার জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি পুরো দেশের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নের দক্ষিণ দুর্গাপুর এলাকায় এসডিএফ-এর 'বি স্ট্রং' প্রকল্পের উপকারভোগীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, "জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছে। আমাদের বিপরীতে যারা ভোট দিয়েছে, তারা এখন বিরোধী দল হিসেবে কাজ করছে। আমরা যেদিন শপথ গ্রহণ করেছি, সেদিন তারা উপস্থিতও ছিল না এবং আমাদের কোনো ধরনের সহযোগিতাও করেনি। অথচ এখন তারা কেবল আন্দোলনের কথা বলছে।"
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে তারা আন্দোলন করেছেন এবং এর ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। হাসিনার শাসনকালে দেশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র রক্ষা করা হয়েছে এবং এখন সেই অর্জনকে সুরক্ষা দেওয়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার এই প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের গঠনমূলক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
বিরোধী দলের কৌশল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপিকে একপ্রকার জিম্মি করার চেষ্টা করছে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, হাসিনা সরকার যেভাবে ১৭২ দিন হরতাল দিয়ে দেশের মানুষকে জিম্মি করে ক্ষমতায় এসেছিল এবং পরবর্তী ১৭ বছরে দেশের চরম ক্ষতি করেছে, বর্তমান বিরোধী দলগুলোও সেই পথ অনুসরণ করতে চাইছে। তাদের ধারণা, আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি, তারেক রহমান এবং বর্তমান মন্ত্রী-এমপিদের দুর্বল করে দেওয়া যাবে, যাতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে তাদের ভোট দেয়। মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, এই সুযোগ কোনোভাবেই দেওয়া যাবে না এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে হবে।
উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে পানিসম্পদমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে দৃশ্যমান উন্নয়ন লক্ষ্য করা যাবে। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বকে শক্তিশালী রাখতে হবে। তারেক রহমানের পিতা জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশকে স্বনির্ভর করার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং তার মা বেগম খালেদা জিয়া গ্রামগঞ্জে ঘুরে ঘুরে জনগণের সাথে কাজ করে উন্নয়ন নিশ্চিত করেছিলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী ৫ বছরে তেমন কাজ হলে দেশের মানুষের মুখে হাসি ফুটবে।
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি বেলাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ ভুঁইয়া, দিঘলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম সরওয়ার, সাধারণ সম্পাদক কাজী নুরুল আমিন, বিএনপি নেতা শাহজাহান মিয়া এবং চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহের ইসলাম জাহাঙ্গীর প্রমুখ।















