গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে বিরোধী দলগুলো নতুন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে এবং তাদের এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ৫ আগস্ট পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্টদের আচরণের অদ্ভুত মিল রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ওয়াপদা) খালের তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বিরোধী দলগুলোর ভাষা ও আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, গালিগালাজ করাকে তারা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবে গণ্য করে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, যদি এটিই হয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, তবে এ দেশের সাধারণ মানুষ তাদের কখনোই গ্রহণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তাদের এই অশালীন আচরণকে কোনোভাবেই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বলা সম্ভব নয়। বরং তারা পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলগুলো নিজেরাই হুমকি দিচ্ছে যে, ১১ দলের দাবি মেনে না নিলে বোমাবাজি এবং ককটেল নিক্ষেপ বন্ধ হবে না।

৫ আগস্টের ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যারা সেদিন দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারা এখন দূর থেকে প্ররোচনা দিচ্ছে। তাদের নির্দেশনায় গাড়িতে আগুন দেওয়া, ককটেল নিক্ষেপ এবং ঝটিকা মিছিলের যে সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে, বর্তমান বিরোধী দলের অপকর্ম ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার হুবহু মিল পাওয়া যায়। তিনি দাবি করেন, দেশের স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এ প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এটি জিয়াউর রহমানের দল এবং বেগম খালেদা জিয়ার দল। আমরা দীর্ঘ আন্দোলন এবং রাজপথের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছি। রাজপথে ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে এবং আগামী দিনেও এই অপশক্তিকে আমরা রাজপথেই মোকাবিলা করব।

পানিসম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার যেদিন শপথ গ্রহণ করেছে, সেদিন বিরোধী দলগুলো উপস্থিত ছিল না। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে, বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা বা ভিন্ন মতামত থাকতে পারে, তবে তাদের পদ্ধতিটি ফ্যাসিস্টদের মতোই। তিনি অভিযোগ করেন, আশির দশকের মাঝামাঝি এবং নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তারা যেভাবে ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছিল, এখন তারা চায় আগামী পাঁচ বছর সরকার শান্তিতে কাজ করতে না পারে। প্রথম দিন থেকেই তাদের মানসিকতা অত্যন্ত নেতিবাচক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিরোধী দলগুলোর দ্বিমুখী আচরণের কথা উল্লেখ করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, তারা সংসদের ভেতরে অত্যন্ত সুন্দর ও মার্জিত ভাষায় কথা বলেন, যা শুনে প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রতি সদয় হয়ে বরাদ্দ বাড়িয়ে দেন। কিন্তু সংসদের বাইরে গিয়ে তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ ধারণ করেন। বাইরে গিয়ে তারা অসভ্য, অশালীন এবং শিষ্টাচার বহির্ভূত ভাষায় কথা বলেন, যা ভদ্র সমাজে বা পারিবারিক আলোচনায় আনা সম্ভব নয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খান, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজসহ স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।