সাভারে প্রেশারকুকার বোমা উদ্ধার: সিটিটিসি-র তৎপরতায় নিষ্ক্রিয়, এলাকায় চরম আতঙ্ক

ঢাকার সাভারে একটি ‘প্রেশারকুকার বোমা’ উদ্ধার ও তা নিষ্ক্রিয় করার ঘটনা স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের দক্ষ বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে। তবে একের পর এক রহস্যজনক বোমার ঘটনায় সাভারের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের সাদাপুর গোপের বাড়ি এলাকার ঘোড়া মসজিদের মাঠে। আজ বুধবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে সিটিটিসি-র বিশেষ দল বোমাটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে। জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতে বনগাঁওয়ের ওই মসজিদের মাঠে একটি নীল রঙের ড্রাম পড়ে থাকতে দেখা যায়, যার ভেতরে ছিল সন্দেহভাজন প্রেশারকুকার বোমাটি।

ঘটনাস্থলের পাশেই অবস্থিত জামিয়া উলুম ইল্লা সোসাইটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জানান, রাত ১২টার দিকে একটি ‘হ্যালো বাইক’-এ করে তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ওই মাঠে আসেন। তারা দ্রুত একটি নীল রঙের ড্রাম সেখানে ফেলে রেখে দ্রুত প্রস্থান করেন। পরবর্তীতে মসজিদের লোকজন ড্রামটি খুলে দেখতে পান যে, এর ভেতরে একটি পবিত্র কোরআন শরীফ, কালো স্কচটেপে মোড়ানো একটি প্রেশারকুকার, একটি রিমোট কন্ট্রোল এবং কিছু জামাকাপড় রয়েছে।

বোমা সন্দেহে আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয়রা দ্রুত পবিত্র কোরআন শরীফটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন এবং প্রেশারকুকারটি মাঠের কিছুটা দূরে একটি খালি জায়গায় রেখে দেন। তবে রহস্যজনকভাবে ভোর ৬টার দিকে কেউ এসে রিমোটসহ ওই নীল রঙের ড্রামটি নিয়ে চলে যায়। সকালে পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন সেখানে কেবল প্রেশারকুকারটি পড়ে থাকতে দেখে।

সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসেন স্থানীয়দের বরাতে জানান, মঙ্গলবার রাতে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ড্রামটি রেখে গিয়েছিলেন। সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। বেলা ১টার দিকে বোমা ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দুপুর থেকে সতর্কতার সাথে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বিকেল সাড়ে ৩টার পর বোমাটি নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম নিশ্চিত করেন যে, রাতে দুষ্কৃতকারীরা পরিকল্পিতভাবে একটি ড্রামে প্রেশারকুকার বোমা রেখে গিয়েছিল। সিটিটিসি-র বোমা ডিসপোজাল টিমের তৎপরতায় এখন এলাকাটি নিরাপদ। তিনি আরও জানান, এই গুরুতর অপরাধের জন্য দোষীদের শনাক্ত করে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।