পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরাইল প্রজাতির একটি মা বালিহাঁস ও তার নয়টি ছোট ছানাকে উদ্ধার করেছেন ‘এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী’-র সদস্যরা। উদ্ধার করা ছানাগুলো অত্যন্ত ছোট এবং কালো বর্ণের। রবিবার বিকেলে উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের বাদুরতলী বাঁধঘাট এলাকা থেকে এই বিরল প্রজাতির পাখিগুলোকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকারী সদস্যদের মতে, উদ্ধারকৃত পাখিটি সরাইল প্রজাতির বালিহাঁস, যা বর্তমানে বিলুপ্তির চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। সাধারণত ডিম পাড়া এবং বাচ্চা ফোটানোর সময়ে এই প্রজাতির পাখিরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেক সময় লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সরকারি পর্যায়ে কঠোর নির্দেশনা এবং আইন কার্যকর থাকলেও, লোকালয়ে চলে আসায় এসব পাখি প্রায়ই শিকারি বা সাধারণ মানুষের হাতে বিপদের মুখে পড়ে।
এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর সদস্য মাসুদ হাসান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই বন বিভাগের সহযোগিতায় টিয়াখালী ইউনিয়নের বাদুরতলী বাঁধঘাট এলাকার বাসিন্দা মাইনুদ্দিন শরীফের বাড়ি থেকে মা বালিহাঁস ও তার নয়টি ছানাকে উদ্ধার করা হয়েছে। ছানাগুলো যেহেতু খুব ছোট এবং নাজুক অবস্থায় রয়েছে, তাই তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে আপাতত একটি নিরাপদ শেডে রেখে বিশেষ পরিচর্যা করা হবে। পরবর্তীতে তারা যখন পূর্ণ সুস্থ ও স্বাবলম্বী হবে, তখন উপযুক্ত সময়ে তাদের প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মাইনুদ্দিন শরীফ সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় একটি ডোবায় মা পাখিটি তার ছানাদের নিয়ে বিচরণ করছিল। সেই সময় কয়েকজন শিশু ঢিল মেরে এবং জাল ব্যবহার করে পাখিগুলোকে ধরার চেষ্টা করছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি তিন দিন আগে পাখিগুলোকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে তিনি তার পোষা হাঁসের বাচ্চাদের সঙ্গে রেখে সেগুলোর যত্ন নিচ্ছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাদুরতলী খালে মাঝেমধ্যেই এই প্রজাতির হাঁসের ঝাঁক দেখা যায় এবং এর আগেও এলাকায় এ ধরনের পাখির বিচরণ লক্ষ্য করা গেছে।
উপজেলা বন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এনিমেল লাভার্সের সদস্যদের সহযোগিতায় মা বালিহাঁস ও ছানাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। সঠিক সময়ে তাদের বনের নিরাপদ পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বন্য পাখি ধরার চেষ্টা করা আইনত অপরাধ। কোনো বিপদে পড়া বন্যপ্রাণীর সন্ধান পেলে তা নিজে ধরতে চেষ্টা না করে দ্রুত বন বিভাগ অথবা স্বীকৃত বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়া উচিত।






