কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে তীব্র অভিযোগ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই স্পর্শকাতর ঘটনায় জনমানুষের কাছে ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য’ পরিবেশন করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, “সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে এসে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে বিএনপির লোকজন ভাঙচুর চালিয়েছে এবং এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন যে, এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কীভাবে এত নির্লজ্জভাবে মিথ্যা কথা বলতে পারেন? তার কি এই বিষয়ে কোনো অনুশোচনা নেই?”

তিনি আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, “রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দায়িত্বে থেকে যদি একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার এভাবে অসত্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করেন, তবে তার এই পদে থাকার কোনো নৈতিক বা পেশাগত যোগ্যতাই নেই।” এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক আরও অভিযোগ করেন যে, দেশের কোথায় কী ঘটছে, কোথায় আইনি মামলা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ কোথায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে—এসব বিষয় সম্ভবত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘ধান্দার’ মধ্যে পড়ে না।

পোস্টের শেষাংশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রশ্ন তোলেন, “এখন একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, সারা বাংলাদেশের মানুষ কি ভারসাম্যহীন, নাকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন? আপনি কি বিষয়টি বুঝতে পারছেন? সম্ভবত বুঝেননি! এখন সাধারণ মানুষ এবং সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিন।”

এর আগে রোববার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এক বিবৃতিতে জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তবে তিনি দাবি করেন, সালমান মুক্তাদির এই ঘটনায় কোনো মামলা করেননি এবং তিনি বিএনপিকে ঢালাওভাবে অভিযুক্ত করছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ওই এলাকায় আগে থেকেই জমি নিয়ে বিরোধ ছিল এবং তার জেরেই এই ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ফেসবুকে সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগগুলো ঢালাও এবং ঘটনাস্থল থেকে কিছু গুলির খোসাও পাওয়া গেছে। তবে অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজ এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের নির্মাণাধীন স্টুডিওতে আকস্মিক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারীরা স্টুডিওর মূল্যবান সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র ব্যাপকভাবে ভাঙচুর এবং লুটপাট করেছে। ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওবার্তার মাধ্যমে এই হামলার কথা জানান। ওই ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কেন এই হামলা চালানো হলো এবং এর পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে জনমনে জোরালো প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।